ক্যাটাগরি

ক্ষমতায় আসার পর ২০২০ ছিল সবচেয়ে কঠিন বছর: মের্কেল

এবছরের মেয়াদ শেষে ক্ষমতা ছাড়ার কথা রয়েছে মের্কেলের। তার আগে জাতির উদ্দেশে নতুন বছর উপলক্ষে দেওয়া শেষ ভাষণে একথা বলেছেন তিনি।

তবে কোভিড-১৯ এর টিকা দেওয়া শুরু হওয়ায় ২০২১ আশার বছর হয়ে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

২০০৫ সালে জার্মানির চ্যান্সেলর হয়েছিলেন আঙ্গেলা মের্কেল। এবছর মেয়াদ ফুরোলেই তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবন থেকেও সরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

দীর্ঘ এই শাসনামলে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কট, এর এক বছর পর গ্রিসের ঋণ সংকট এবং পাঁচ বছর আগে অভিবাসী সঙ্কটের মধ্যেও জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কান্ডারী হয়ে থেকেছেন মের্কেল।

কিন্তু সব সংকট ছাপিয়ে কোভিড-১৯ মহামারী ২০২০ সালকে সবচেয়ে কঠিন করে তুলেছে ইঙ্গিত দিয়ে মের্কেল বলেন, “আমি একটুও বাড়িয়ে বলছি না। গত ১৫ বছরে কখনওই বিদায়ী বছরকে এত ভারি মনে হয়নি। আবার শত উদ্বেগ আর কিছু সমালোচনার পরও কোনও নতুন বছরের জন্য এত আশা নিয়ে কখনও অপেক্ষা করিনি।”

তিনি আরও বলেন, “করোনাভাইরাসে প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকার্ত স্বজনরা কিংবা ভাইরাসটির শিকার হয়ে অসুস্থতার সঙ্গে লড়ে যাওয়া মানুষেরা কতটা তিক্ততা বোধ করছেন তা কেবল  আমরা কল্পনাই করতে পারি।”

বৈজ্ঞানিক পরামর্শমত মহামারী পরিস্থিতি সামাল দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন মের্কেল। অনেক ইউরোপীয় দেশের তুলনায় নিজ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত-মৃত্যু কম রাখতে পেরেছিলেন তিনি।

কিন্তু প্রথম দফা করেনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও এর দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে ব্যর্থতার জন্য মের্কেল পরবর্তীতে সমালোচিতও হয়েছেন।

তবে এখনও করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়া-কমার ওপর ভিত্তি করে মের্কেলের সময়ে সময়ে কড়া এবং শিথিল বিধিনিষেধের কৌশলে আস্থা আছে বেশিরভাগ জার্মান নাগরিকের।

জার্মানিতে এ বছর সেপ্টেম্বরেই নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। মের্কেলের দলই পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন জিতবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মের্কেলের এবার শাসনক্ষমতা অন্যের হাতেই তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।