ক্যাটাগরি

চিনিকলের দুর্নীতির কথা বললেন কর্মকর্তাদের সন্তানরাও

সম্প্রতি
১৬টি চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ছেলেমেয়েদের প্ল্যাটফর্ম ‘সুগার মিলস
চিল্ড্রেনস ফোরাম’ ঢাকায় এক মানববন্ধনে এই পরামর্শ দেন।

সারাদেশে
ছড়িয়ে থাকা সরকারি চিনিকলগুলো দীর্ঘদিন ধরে লোকসান দিচ্ছে। পুরোনো মেশিনপত্র, অতিরিক্ত
জনবল ও দুর্নীতির কারণে চিনিকলগুলো লোকসান দিচ্ছে বলে পুরোনো অভিযোগ রয়েছে। লোকসান
কমাতে এবং কারখানার আধুনিকায়নের জন্য চলতি মওসুমে ছয়টি চিনিকল সাময়িক বন্ধ করেছে সরকার।

এর
প্রতিবাদেই গত শনিবার রাজধানীতে সুগার মিলস চিল্ড্রেনস ফোরাম মানববন্ধন করে বলে সংগঠনটির
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ফোরামের
সদস্য খালিদ আশরাফ বলেন, “চিনিকলগুলোর লোকসানের জন্য দায়ী গুটি কয়েক জনের দূর্নীতি
আর অব্যবস্থাপনা। এর দায় হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিক আর আখচাষিদের উপর চাপিয়ে দেওয়া
হচ্ছে। অথচ দুর্নীতি নির্মূল ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”

 সরকারি মালিকানাধীন চিনিকলগুলো বন্ধ না করে পণ্য
বহুমুখী করার লক্ষ্যে কারখানাগুলো আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি দূর করে চিনিকলগুলো লাভজনকভাবে
চালানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফোরামের
আরেক সদস্য সুলতানা নাসরিন জাহান বলেন, “চিনিশিল্প আধুনিকায়নের প্রকল্পের কথা মুখে
বলা হলেও একটি প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি। দুটি চিনিকল আধুনিকায়ন করার জন্য দুটো প্রকল্প
হাতে নেওয়া হলেও গত সাত বছরে কয়েকটি গাড়ি কেনা ছাড়া প্রকল্পের কোনো কাজই হয়নি। অথচ
এর দায় বহন করতে হচ্ছে হাজার হাজার আখচাষি আর চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের।

“সারা
দুনিয়ায় যখন অর্গানিক চিনির কদর বাড়ছে, তখন আমাদের দেশে অর্গানিক চিনি উৎপাদনকারী সরকারি
চিনিকল বন্ধের অপচেষ্টা চলছে।”

নাসরিন
বলেন, “সরকারি মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে জনগণকে রিফাইনারিগুলোতে আমদানিকরা রাসায়নিক চিনি
খেতে হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।”

চিনির
পাশাপাশি এই চিনিকলগুলোকে বিদ্যুৎ ও অ্যালকোহল এবং ইথানলভিত্তিক পণ্য উৎপাদন করে লোকসান
কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।