ক্যাটাগরি

অন্য দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংজ্ঞার তথ্য সংগ্রহের সুপারিশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক
মন্ত্রণালয়কে এই তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে
সুপারিশ করা হয়। বৈঠক থেকে কমিটির সদস্যরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ
নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে যান।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে বলেন, “বিভিন্ন দেশে তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংজ্ঞা কী সেটা দেখতে বলা
হয়েছে। সেখান থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি। নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারি।”

এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো
হয়, বৈঠকে বিশ্বের যে সব দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে, সে সব দেশ হতে পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সম্বলিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বীর
মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণে কমিটি সুপারিশ করে।

স্বাধীনতার পর গত ৪৯ বছরে ছয়বার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা
সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার বয়স, সংজ্ঞা ও মানদণ্ড পাল্টেছে ১১ বার।

নতুন সংজ্ঞার আলোকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্ত
হওয়ার জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। বিএনপি
সরকারের সময় নতুন করে তালিকাভুক্ত ৪৪ হাজারের বেশিরভাগ এবং বিগত আওয়ামী লীগ
সরকারের সময় তালিকাভুক্ত ১১ হাজারের অর্ধেকই ‘ভুয়া’ বলে শনাক্ত করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেশ কয়েক বছরজুড়ে বীর
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি চললেও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ
নানা কারণে আর শেষ করা যায়নি।

স্বাধীনতা স্তম্ভ পরিদর্শন সম্পর্কে কমিটির সভাপতি
বলেন, “আমরা প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে বলেছি। কাজের গতি
বাড়ানোর জন্য বলেছি।”

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটির
প্রকল্পস্থলে হেলিপ্যাড সুবিধা রাখার সুপারিশ করেছে।

এদিকে বৈঠকে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে
গঠিত মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ কমপ্লেক্স ফান্ডের পুরো অর্থের হিসাব আগামী বৈঠকে
উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

১৯৭৬ সালে সরকারি উদ্যোগে যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের
কল্যাণে ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ড কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। ফান্ড সংগ্রহে সারা
দেশের সিনেমা হলগুলোর টিকিট থেকে ১০ পয়সা করে কাটা হত। এই ফান্ডের মাধ্যমে
মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য মিরপুর চিড়িয়াখানার কাছে স্থানে দুটি কর্মসূচি হাতে
নেওয়া হয়।

ভবন তৈরির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধাদের
চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রথম দিকে
কমপ্লেক্সের জায়গা নেওয়া ও হাসপাতালটি চালু হয়, নানা অনিয়মের কারণে পরে হাসপাতালটি
ছেড়ে দেওয়া হয় বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে।

শাজাহান খান বলেন, “এই ফান্ডের কথা অনেকে জানেই না।
আমরা এই ফান্ডের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য আগামী বৈঠকে দেওয়ার সুপারিশ করেছি।”

শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম
বীর উত্তম, এ বি তাজুল ইসলাম, কাজী ফিরোজ রশীদ ও ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল অংশ নেন।