তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ লোকজন এবিসি নিউজ ও সিএনএনকে জানিয়েছেন, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তিনি লস অ্যাঞ্জেলসের সিডার-সাইনাই মেডিকেল সেন্টারে আছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, দীর্ঘ ৬০ বছরের কর্মজীবনে দুটি পিবডি ও একটি অ্যামি পুরস্কারসহ বহু প্রশংসা অর্জন করেছে কিং।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হৃদরোগসহ বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার মোকাবেলা করেছেন ৮৭ বছর বয়সী কিং। তার হাসপাতালে থাকার বিষয়ে কিংয়ের প্রতিনিধিরা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি। এ কারণে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানা যায়নি।
কিংযের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেছেন, “গত কয়েক বছরে ল্যারি বহু স্বাস্থ্যগত সমস্যার মোকাবেলা করেছেন আর এবারও কঠিন লড়াই করছেন, তিনি একজন চ্যাম্পিয়ন।”
কিংয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কথা ১ জানুয়ারি প্রথম প্রকাশ করেছিল শোবিজ ৪১১। হাসপাতালে তাকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদেরও তার কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছিল তারা।
১৯৭০ এর দশকে বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক মিচুয়াল ব্রডকাস্টিং সিস্টেমে তার রেডিও অনুষ্ঠান ‘দ্য ল্যারি কিং শো’ এর মাধ্যমে কিং খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন। এরপর ১৯৮৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সিএনএন এ ‘ল্যারি কিং লাইভ’ নামের সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন তিনি।
এ সময় তিনি রাজনীতিক, ক্রীড়াবিদ, বিনোদন ব্যক্তিত্ব ও ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকসহ বহু অতিথির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউএসএ টুডে সংবাদপত্রে কলামও লিখেছেন তিনি।
অতি সম্প্রতি কিং হুলু ও রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম আরটিতে ‘ল্যারি কিং নাও’ নামে আরেকটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হয়েছিলেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রখ্যাত এই সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী ডায়াবেটিস, এনজাইনা, হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্যান্সারসহ বহু ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন।
গত বছর তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে দুই জন পরপর মারা যান। তাদের মধ্যে একজন হৃদরোগে ও অন্যজন ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগে মারা যান।
১৯৮৮ সালে কিং ‘ল্যারি কিং কার্ডিয়াক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই দাতব্য প্রতিষ্ঠান স্বল্প আয়ের লোকজন ও যাদের মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স নেই তাদের হৃদরোগজনিত চিকিৎসার খরচ যুগিয়ে থাকে।