শনিবার চট্টগ্রামের
সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণ সভার আয়োজন করে নগর যুবলীগ। ওই সভায় দীর্ঘদিন
পর একমঞ্চে আসেন নগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও চার যুগ্ম আহ্বায়ক।
সভায় যুবলীগ সাধারণ
সম্পাদক নিখিল ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ দলীয়
নেতারা যুবলীগকে সিটি নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেন।
সভায় সাড়ে সাত বছরের
পুরনো নগর যুবলীগের এই আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু সম্মেলন করে দায়িত্ব
হস্তান্তর করার ইচ্ছার কথাও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদককে জানিয়ে দেন।
স্মরণ সভার প্রধান
বক্তা মাইনুল হোসেন খান নিখিল সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আগামী সিটি করপোরেশন
নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। মানুষের হাতে পায়ে ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যুবলীগ
ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নৌকাকে জয়লাভ করাবেন।”
নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব
মেটানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি চিন্তা করব, আমি ভাবব সারা রাত আদর্শের বিপক্ষের
শক্তিকে নিয়ে। আমি সারা রাত আমার আদর্শের পক্ষের শক্তিকে নিয়ে ভাবতে চাই না। মহানগর
যুবলীগের আহ্বায়ক কেন যুগ্ম আহ্বায়কদের নিয়ে রাতের ঘুম হারাম করে দিব? যুগ্ম আহ্বায়ক
হয়ে কেন মহানগরের আহ্বায়ককে নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুম হারাম করব? আমি এ জায়গায় থাকতে চাই
না।”
তিনি বলেন, “যুবলীগের
চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের পক্ষ থেকে মহানগর যুবলীগকে নির্দেশ, যারা এ অঞ্চলকে
নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী, যারা জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে
হবে। হানাহানি ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হন। বিএনপি আবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।”
২০১০ সালের সিটি করপোরেশন
নির্বাচনের কথা তুলে ধরে নিখিল বলেন, “২০১০ সালের নির্বাচনে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর
পরাজয় হয়নি, পরাজিত হয়েছেন প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। জানি না, কী কারণে সেদিন
মেয়র মহিউদ্দিন এক লক্ষ ভোটে হেরে যায়? মেয়র মহিউদ্দিন এমন কোনো কাজ করেননি যে এত ভোটে
হেরে যাবে। কোথায় আমাদের দুর্বলতা, আমরা কী সেই কথা ভুলে যেতে চাই?
“বীর মুক্তিযোদ্ধা
রেজাউল করিমকে নেত্রী নৌকা প্রতীক দিয়ে পাঠিয়েছেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সকল
নেতাকর্মী যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন ওই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামায়াত-বিএনপির প্রতীক
ধানের শীষ জয়লাভ করতে পারে না। যদি নৌকা কোনো কারণে পরাজিত হয়, ধরে নিব অত্র অঞ্চলে
যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ আপনারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক নন, শেখ হাসিনার কর্মী
নন। কারণ আপনারা নিজ নিজ পক্ষের নেতাকে ভালোবাসেন, শেখ হাসিনাকে ভালোবাসেন না।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “মহানগরীতে আবার মেয়র
নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যুবলীগকে বলব সবাই মিলে প্রতিটি কেন্দ্রে ভ্যানগার্ডের মত যদি
থাকেন মহিউদ্দিন চৌধুরীকে যেভাবে বিজয়ী করেছি সেভাবে মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।
নেত্রীও স্বীকার করেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামে অনেক উন্নয়ন করেছেন। তার আত্মা
শান্তি পাবে যদি যোগ্য একজন মেয়র হন।”
মহিউদ্দিনের স্মৃতিচারণ
করে মোশাররফ বলেন, “আমি বড় একা হয়ে গেছি। আমরা যারা ছিলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আখতারুজ্জামান
চৌধুরী বাবু, আতাউর রহমান খান কায়সার ভাইসহ। মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রাম
করেছি। তিনি কখনও ভয় পেতেন না। একসাথে আমরা এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়ক পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছি। বিপুল ভোটে তিন তিনবার মেয়র নির্বাচিত। যেখানে মানুষের
কষ্ট ছিল তিনি ঝাঁপিয়ে পড়তেন। এমন নিবেদিত নেতা পাওয়া কঠিন।”
সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন
বাচ্চু বলেন, “মহিউদ্দিন ভাই আমাদের সবার অভিভাবক ছিলেন। উনার আদর্শে আমরা রাজনীতি
করেছি। সাধারণ মানুষের সাথে তিনি মিশে যেতে পারতেন। আমরা যারা যুবলীগ করি সব বাধা পেরিয়ে
যাব, সকল ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করব।”
২০১৩ সালের জুলাইয়ে
কেন্দ্র থেকে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তখন আহ্বায়ক ও চার যুগ্ম আহ্বায়ক
সবাই মহিউদ্দিনের অনুসারী ছিলেন। সেই কমিটির মেয়াদ সাত বছর পেরিয়েছে।
আহ্বায়ক এবং চার যুগ্ম
আহ্বায়ক গত বছরের শুরুর দিক থেকে পৃথক অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন। দীর্ঘদিন পর ২২ অক্টোবর
শেখ রাসেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তারা একমঞ্চে আসেন।
এরপর আবারও পৃথক আয়োজন
করতে থাকেন। এমনকি যু্বলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও তাদের আয়োজন ছিল আলাদা।
সবশেষ শনিবারের সভায়
চার যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, দিদারুল আলম ও মাহাবুবুল হক সুমন
উপস্থিত ছিলেন।