ক্যাটাগরি

নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: আসামি মোজাম্মেলের জামিন

জামিন পাওয়া মোজাম্মেল হোসেন সোহাগক (৪৮) একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ তাকে জামিন দেয়।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী অজি উল্লাহ; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।

আসামির আইনজীবী পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মোজাম্মেল এজাহারভুক্ত নন, তাকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।  

“সেখানে বলা হয়েছে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করেননি। অর্থাৎ থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করে নাই। ফলে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ছয় মাসের কারাদণ্ড। গত বছর ৬ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে অর্থাৎ তিন মাস ধরে তিনি কারাগারে আছেন। আদালত এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন দিয়েছেন।”

ওই ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণচেষ্টা ও ধর্ষণের পৃথক দুটি মামলায় মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এদের মধ্যে ধর্ষণের মামলার দুই আসামিও রয়েছেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল গত বছর ১৫ নভেম্বর মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্রগুলো জমা দেন।

দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি করা এই ঘটনার পেছনে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী মূল ভূমিকা রেখেছিলেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।


নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনে ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
 

অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার আগে পিবিআই জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ধর্ষণচেষ্টা এবং ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা দুই মামলার অভিযোগপত্রে এজাহারে নাম থাকা নয়জনের মধ্যে একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর এজাহারে নাম আসেনি এমন আরও ৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার এবং চারজন পলাতক আছেন।

সে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার ইকবাল জানিয়েছিলেন, বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্থানীয় জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে।

তিনি বলেছিলেন, জামাল উদ্দিন ঘটনার পেছনে থাকায় মামলার এজাহারে তার নাম উঠে আসেনি। তবে তদন্তকালে বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য, গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, জব্দকৃত আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাকে মামলায় প্রধান হোতা হিসাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

জামাল উদ্দিন ছাড়াও অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে আবদুর রব ওরফে চৌধুরী মিয়া, মিজানুর রহমান তারেক ও মোস্তাফিজুর রহমান আরিফ পলাতক রয়েছে।

মোয়াজ্জেম হোসেন ছাড়া কারাগারে থাকা অপর ৯ আসামি হলেন- দেলোয়ার হোসেন দেলু, নূর হোসেন বাদল, মো. আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন মিয়া, মাইন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন ওরফে সুমন, নূর হোসেন রাসেল ও আনোয়ার হোসেন সোহাগ।

এ মামলায় গ্রেপ্তার অপর দুই আসামি রহমত উল্লা ও মাঈন উদ্দিন সাহেদকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রহমত উল্লাকে মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছিল। আর মাঈন উদ্দিন সাহেদকে তদন্তকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ধর্ষণচেষ্টার মামলার আসামিদের মধ্য থেকে দেলোয়ার ও মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। আবুল কালাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টা মামলায় ৪৮ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করা হয়। এ মামলার তদন্তে মোট ৩০ জনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। আর গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত বছর ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ঘরে ঢুকে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ধর্ষণের চেষ্টা ও ভিডিও ধারণ করে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী। এরপর গত ৪ অক্টোবর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাগুলোর তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়।