ক্যাটাগরি

পেঁয়াজে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আলোচনা করে: বাণিজ্যমন্ত্রী

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, “রাজস্ব বোর্ড,
কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠকে বসবে। পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক আরোপ করা
হবে কিনা তা চূড়ান্ত করা হবে সেখানে।”

দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের সংকট নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “যদি দেখি ভারতের
পেঁয়াজ ৩৯ টাকায় ঢুকছে, সেটাতে আমাদের জন্য আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। ভারত আজকে পেঁয়াজ
ছেড়েছে। বর্ডারে ভারত থেকে পেঁয়াজ ঢুকছে ৩৯ টাকা দরে। আর ঢাকার বাজারে সে পেঁয়াজ পাইকারিতে
৪৫ টাকা, আর খুচরা বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।”

আমদানি শুল্ক বাড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আলোচনা করে ঠিক করব আমরা
কি করব।”

সাড়ে তিন মাস বন্ধ রাখার পর নতুন বছরের শুরুতে আবার পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি
দিয়েছে ভারত।

অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও মজুদে ঘাটতির কারণে গত ১৪ সেপ্টেম্বর
পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল দেশটি।

এই পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালের মত গতবছরও মিয়ানমার, পাকিস্তান, চীন, মিশর,
তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে সরকার।

পাশাপাশি ৩১ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার
করে নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার কোনো সিদ্ধান্ত আছে কিনা জানতে চাইলে
টিপু মুনশি বলেন, “বন্ধ করা, খোলা তাদের সিদ্ধান্ত। এক সময় তো পয়সা খরচ করে এলসি ওপেন
করেছিল। আমরা বন্ধ করতে চাই না। ডিউটি স্ট্রাকচার এভাবে করতে চাই যাতে ওখান থেকে আনতে
গিয়ে লাভজনক না হয়।

“কোনো অবস্থাতেই যাতে উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়৷ কারণ তাদের সাপোর্ট
না দিলে সামনের দিনগুলোতে আমাদের আরও খারাপ অবস্থা হবে।”

আগামী মার্চ মাসে যে পেঁয়াজ আসবে সে পর্যন্ত কোনো সমস্যা হবে না জানিয়ে
তিনি বলেন, “আমাদের ধারণা পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৮ টাকা৷ সেটা যদি কৃষকরা ২৫ টাকায়
বিক্রি করতে না পারে তাহলে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। আর সে পেঁয়াজ ঢাকা পর্যন্ত আসতে
৪০ টাকায় ভোক্তারা পাবে।”

ভোজ্য তেলের মূল্য নিয়ে এক প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোজ্য তেলের
ব্যাপারে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দামটা বেড়ে গেছে।
সেজন্যই দামের প্রভাবটা আমাদের দেশে পড়েছে।”

“আমাদের আমদানি করে চলতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের উপর আমাদের ভরসা করতেই
হবে। কিন্তু এই সুযোগটা নিয়ে কেউ যেন এক্সট্রা বেনিফিট না নেয়, সেটা আমরা লক্ষ্য রাখব।
সবসময়ই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা, সুযোগটা নেওয়ার চেষ্টা করেন। আমরা চেষ্টা করব
আন্তর্জাতিক বাজারে যে দামটা বেড়েছে আমাদের দেশে যেটা বাড়বে সেটা যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ
হয়।”

চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, “চালের দামটা বেড়েছে তার অন্যতম কারণ
হলে যথেষ্ট স্টক আমাদের সরকারের কাছে নেই। সরকার খুব শক্ত একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে- আমরা
আমদানি করব। সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি মনে করি সেক্ষেত্রে চালের দামটা কমবে।”

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৭ জানুয়ারি উপজেলাগুলোতে বিএনপির
মানববন্ধন কর্মসূচির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “চাল-ডালের দামটা বেড়েছে, কিন্তু অনেক
আইটেমের দাম কমে গেছে। শাক-সবজি, আলুর দাম কন্ট্রোলে আছে। পেঁয়াজের দামও কমে আসছে।
মূলত বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যত বেশি বেড়েছে, তার চেয়ে একটা রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেওয়ার
জন্যই তারা দিয়েছে। আমরা সেটা লক্ষ্য করছি।

“রাজনৈতিক দল তো রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবেই। এখন দিচ্ছে কারণ তারা নতুন
বছরে বলছে নতুন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে হবে, তাই তারা এই কর্মসূচি দিয়েছে।”