ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য ১০ দিন দেরি চান সিনেটর এবং নবনির্বাচিত সিনেটর মিলিয়ে মোট ১১ রিপাবলিকান। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজের নেতৃত্বে একাট্টা হয়েছেন তারা।
সিএনএন জানায়, শনিবারই এই রিপাবলিকানরা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আগামী ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ইলেকটোরাল ভোট গণনার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।
কংগ্রেসে ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নিয়ে আপত্তি তুলে একটি ইলেকশন কমিশনকে দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিরোধপূর্ণ রাজ্যগুলোতে নির্বাচনী ফল ১০ দিনের জন্য নিরীক্ষা করার প্রস্তাব দিতে চান এই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা।
১৮৭৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনটি অঙ্গরাজ্যে উভয় দল জয় দাবি করলে তদন্তের জন্য একটি দ্বিদলীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই উদাহরণ টেনেই এবার কংগ্রেসের কাছে একটি কমিশন নিয়োগের দাবি তাদের।
তবে ১১ রিপাবলিকানের এই দলটি তাদের পদক্ষেপে সফল হবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, ৬ জানুয়ারির ভোটে বাইডেনকে সমর্থন দেওয়ার কথা অধিকাংশ সিনেটরেরই। এরপর ২০ জানুয়ারিতে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে বাইডেনের।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত ৩ নভেম্বরের নির্র্বাচনে এখনও হার স্বীকার করে নেননি। কোনও প্রমাণ ছাড়াই ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন তিনি।
তার পক্ষে দাঁড়ানো ১১ রিপাবলিকান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০ জানুয়ারির আগে নির্বাচনী ফলের সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নিরীক্ষা হলে এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মার্কিনিদের আস্থা বাড়বে এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট যিনি হচ্ছেন, তার বৈধতার ভিতটাও মজবুত হবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।
ওদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ না করলেও ভোটার জালিয়াতি এবং ভোটে অনিয়ম নিয়ে আমেরিকানদের উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।
আর এ কারণে ৬ জানুয়ারিতে আইনানুযায়ী, ভোট নিয়ে আপত্তি তুলে কংগ্রেস এবং জনগণের সামনে বিষয়টি প্রমাণের জন্য রিপাবলিকানদের উদ্যোগকে পেন্স স্বাগত জানাচ্ছেন বলে এক বিবৃতিতে সিএনএন- কে জানিয়েছেন তার চিফ অব স্টাফ।
সিনেটের প্রেসিডেন্ট হিসাবে ৬ জানুয়ারির অধিবেশন তদারক করা এবং জো বাইডেনকে বিজেতা ঘোষণা করার দায়িত্ব মাইক পেন্সের। তিনিই ওইদিন সাংবিধানিক দায়িত্ব অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে পাঠানো ইলেকটোরাল ভোটের খামগুলো খুলবেন এবং সার্বিক ফলাফল ঘোষণা করবেন।
এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসে ওইদিনই বাইডেনের নির্বাচনের ফল সার্টিফাই হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি রাজ্য এরই মধ্যে নির্বাচনের ফল সার্টিফাই করেছে। কয়েকটি রাজ্য ভোট পুনর্গণনা এবং আইনি লড়াইয়ের পর ফল সার্টিফাই করেছে।
আর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে বাইডেনের জয়ের বিরুদ্ধে জানানো ৬০ টি চ্যালেঞ্জ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তারপরও ৬ জানুয়ারিতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের অন্তত ১৪০ রিপাবলিকান সদস্য ইলেকটোরাল ভোটের প্রত্যয়নের বিরোধিতা করতে পারেন বলে এর আগে এক খবরে জানিয়েছিল সিএনএন।
মিজৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জোস হাওলি গত বুধবার ভোটের ফলে আপত্তি তোলা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা প্রথম প্রকাশ্ করেছিলেন। শনিবার এক টুইটে হাওলি লেখেন, এই পরিকল্পনায় আরও রিপাবলিকনকে সামিল হতে দেখে তিনি খুশী।
টম্পের পক্ষে একাট্টা হওয়া ১১ রিপাবলিকান সিনেটর এবার কোন রাজ্যের ফল প্রত্যাখ্যান করবেন তা তাদের বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট করে জানান নি। তবে হাওলি জানিয়েছেন, তিনি অন্তত একটি রাজ্যের ফলের সার্টিফিকেশন নিয়ে আপত্তি তুলবেন। আর সেটি হচ্ছে পেনসিলভেইনিয়া।
ওদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ না করলেও ভোটার জালিয়াতি এবং ভোটে অনিয়ম নিয়ে আমেরিকানদের উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।