হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, হত্যার শিকার শিশুটির বাবা খছরু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার সিলেটের বিয়ানীবাজার থানার ওসিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছে।
ওই শিশুর বাবার করা মামলার আসামি নাহিদ ইসলাম ইব্রাহিমের জামিন আবেদনের শুনানির সময় এ আদেশ দেয় হাই কোর্ট। ইব্রাহিমের জামিন আবেদনটিও খারিজ করে দেওয়া হয়।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ছিলেন আল আমীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান খান।
ডিএজি বশির উল্লাহ পরে সাংবাদিকদের বলেন, “উচ্চ আদালতে আসামি পক্ষ মামলার বাদী শিশুটির পিতার একটি আবেদন দেন। সে আবেদনে বলা হয়, আসামি নাহিদ ইসলাম ইব্রাহিমের জামিনে তার (বাদির) কোনো আপত্তি নেই।
“এতে আদালত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কারণ এটি একটি হত্যা মামলা। এতকিছুর পরও আসামিকে বাঁচানোর জন্য শিশুর বাবা মামলার বাদী অগ্রগামী হয়েছেন।”
বশির উল্লাহ বলেন, “আদালত আসামির জামিন আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে মামলার বাদী নিহত শিশুটির বাবা খছরু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের করতে বিয়ানীবাজার থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।”
গত বছর ৭ জুন সিলেটের বিয়ানীবাজারের চার বছরের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় মামলা করেন তার বাবা খছরু মিয়া।
সেখানে অভিযোগ করা হয়, আসামি ইব্রাহিমের সঙ্গে শিশুটির চাচির ‘অবৈধ সম্পর্ক’ দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করে আসামিরা। এরপর শিশুটির চাচি সুরমা বেগম ও ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে ঘটনা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন সুরমা বেগম। সেখানে তিনি বলেন, মাথায় আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।
এ মামলায় গত বছর নভেম্বরে সিলেটের আদালতে জামিনের আবেদন করেন ইব্রাহিম। ওই আবেদনের সঙ্গেই শিশুটির বাবা খছরু মিয়ার অনাপত্তিপত্র জমা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ইব্রাহিমকে জামিন দেওয়া হলে তার ‘আপত্তি নেই’।
সিলেটের আদালত ওই জামিন আবেদন খারিজ করে দিলে হাই কোর্টে আবেদন করেন আসামি ইব্রাহিম। কিন্তু হাই কোর্ট তার সেই আবেদন খারিজ করে উল্টো মামলার বাদীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল।