ক্যাটাগরি

করুণ অতীত পেছনে ফেলে এখন তারা ‘প্রিয় নীড়ে’

পরিবার আর সমাজ থেকেও তারা ‘অচ্ছুত’। শুধু জন্মগত ভিন্নতার কারণে নিত্য বঞ্চনা মেনে মানুষের কাছে হাত পেতে জীবন চলে তাদের। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার তৃতীয় লিঙ্গের এমনই ৫০ জন মানুষকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে উপহার দিলেন ‘প্রিয় নীড়’। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে এখন তারা সমাজের অন্যদের মতই বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।

  • সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ধোপাকাণ্ডি এলাকায় ০.৬৬ একর জমিতে চারটি পাঁচ ইউনিটের আধাপাকা ব্যারাক ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য। সেখানে ২০টি ঘরে ঠিকানা হয়েছে ৫০ জনের ।

  • ঘর দেওয়ার পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষগুলোকে স্বাবলম্বী করতে তাদের গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও কবুতর দেওয়া হয়েছে। গরুগুলোর কয়েকটি ইতোমধ্যে দুধ দিতে শুরু করেছে। সেই দুধ তারা বিক্রিও করছেন।

  • নিজেদের বাড়ির চারপাশে চাষবাসও করছেন প্রিয় নীড়ের বাসিন্দারা। বেঁচে থাকার জন্য যে হাত তাদের পাততে হত অন্যের কাছে, সে হাতেই তারা এখন নানা রকম সবজি ফলাচ্ছেন।

  • প্রিয় নীড় আশ্রয়ন প্রকল্পে ঠিকানা পাওয়া ৫০ জনের একজন গৌরী। এতদিন তিনি সিরাজগঞ্জ সড়কে মানুষের কাছে হাত পেতে চলতেন। এখানে সেখানে থাকতে হত অনেক কষ্ট করে। এখন ঘর পেয়ে নিজের মত করে বাঁচার কথা তিনি ভাবতে পারছেন।

  • প্রিয় নীড়ে ঠিকানা পাওয়া আরেকজন ফুলজান। আগে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চাইত না। কোন পরিবারের সঙ্গেও থাকতে পারতেন না। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘর পেয়ে সেই কষ্ট আর লাঞ্ছনার অবসান ঘটেছে।

  • প্রিয় নীড়ের সোনিয়া বললেন, “আগে কেউ ঘর ভাড়া দিত না, দিলেও অতিরিক্ত ভাড়া নিত। এখন প্রধানমন্ত্রী ঘর দিয়েছেন, পুনর্বাসন করেছেন, তাই এখন আমরা অনেক ভালো আছি।”

  • প্রিয় নীড়ে আরো ৪৯জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে বসবাস করেন ফুল। তিনি বললেন, “হিজড়া বলে আমাদের কেউ সম্মান করত না, ঘৃণা করত। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের থাকার জায়গা করে দিয়েছেন। সেজন্য আমরা এখন অনেক ভালো আছি।”

  • “কেন এভাবেই জন্ম হল আমার? কেন আমি মা-বাবার সঙ্গে, ভাই-বোনের সঙ্গে থাকতে পারি না “, এসব প্রশ্ন সবসময় ঘুরপাক খায় পরীমনির মাথায়। সেই কষ্ট তাকে তাড়িয়ে বেড়াত সবসময়। এখন নিজেদের জন্য থাকার জায়গা পেয়ে সে কষ্ট কিছুটা হলেও ভুলতে পারছেন তিনি। নতুন করে বাঁচার ঠাঁই করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তিনি জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা।

  • পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারান বর্ষা। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বলে ১৫ বছর বয়সে তাকে ঘরছাড়া হতে হয়। এরপর দিন কেটেছে এখানে সেখানে। বর্ষা বললেন, “গ্রামের মানুষ অনেক অত্যাচার করেছে। এখন আমার প্রধানমন্ত্রী ঘর করে দিয়েছেন, গরু-ছাগল দিয়েছেন, জায়গা দিয়েছেন। এসব নিয়ে এখন আমরা বেশ ভালো আছি।”

  • প্রিয় নীড়ের বাসিন্দা কলি নিজের বাড়ি পেয়ে খুব খুশি। তিনি বলেন, “এখন আমরা নিজেদের বাড়িতে একসঙ্গে থাকছি। কেউ এখন ঝামেলা করতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।”

  • প্রিয় নীড়ে ঠাঁই পাওয়া মায়া জানান, সব সময় মানুষের অবজ্ঞা, অবহেলা আর লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে তাকে। প্রধানমন্ত্রী এখন পিছিয়ে পড়া একটি জনগোষ্ঠীকে বাসস্থান দিয়েছেন, সমাজের মূল ধারায় নিয়ে আসতে চাইছেন, সেজন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

  • মুজিববর্ষে সিরাজগঞ্জের গৃহহীন-ভূমিহীন এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা নিজেদের ঘর পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। নিজেদের আনন্দের কথা বলতে গিয়ে সবাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

  • তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি বৈষম্য দূর করতে এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের নভেম্বরে সরকার তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দেয়। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি সেই গেজেট প্রকাশ হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।