মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো.
ইসমাইল হোসেন দুনীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় এ আদেশ দেন।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ কোটি এক লাখ ২৯৫ টাকার একটি কাজ জালিয়াতির
মাধ্যমে টেন্ডার আদায় করেছে। সে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
“আদালত আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার
দেখানোর আদেশ দেন।”
চবির ষষ্ঠ একাডেমিক
ভবনের (দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৬ সালের ২৮ অগাস্ট।
জি কে বি এন্ড কোম্পানি
(প্রা.) লিমিটেড লিড ফার্ম হিসেবে এবং দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েটস লি.
পার্টনার ইনচার্জ হিসেবে দরপত্রে অংশ নেয়।
ওই কাজের জন্য প্রথম
নিম্ন দরদাতা হয় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স- জি কে বি এল (জেভি)। ৭৫ কোটি টাকার এই
কাজের চুক্তি হয় ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর। ২০১৮ সালের নভেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষের
সময় নির্ধারিত ছিল।
২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর
সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় গোলাম কিবরিয়া শামীম
ওরফে জি কে শামীম। যিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা পরিচয় দিতেন। জি কে শামীম
গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠে আসে।
চবির ভবন নির্মাণ: জি কে শামীমের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দুদকের
এ প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন (দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) নির্মাণের টেন্ডার পেতে জালিয়াতির অভিযোগে গত
বছরের ২২ নভেম্বর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১
এর সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা করে।
দুদকের করা মামলায় বলা
হয়- প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির প্রকৃত নিবন্ধিত নামের সাথে একক মালিকানাধীন
ফার্মের নাম যুক্ত করে রেজিস্ট্রেশন দেখিয়ে এবং নিবন্ধিত শেয়ারের চেয়ে বেশি
সংখ্যার শেয়ার দেখিয়ে দরপত্র জমা দেয়া হয়।
কাজ পেতে ১০ বছরের
অভিজ্ঞতা, বিগত পাঁচ বছরের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শেষের সনদ এবং অতীতের
টার্নওভারের যে শর্ত দেয়া হয়েছিল সেগুলোর ক্ষেত্রেও বানানো কাগজপত্র জমা দেয়া হয়
বলে দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও
ফার্মসমূহের পরিদপ্তর ১ এ সংশ্লিষ্ট কাগজ যাচাইয়ের জন্য পাঠায় দুদক। সেখান থেকে
এসব জালিয়াতির তথ্য নিশ্চিত হয় তারা।
মামলার পর দুদকের
সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদি ফখরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,
“তাদের আগের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান দুটি ছিল প্রপাইটরশিপ ফার্ম। কিন্তু পরে তারা
লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে দরপত্রের জন্য যখন কাগজ জমা দেয় তখন ওই ফার্মগুলোকে
কোম্পানি হিসেবে দেখায়।
“এজন্য জমা দেয়া কিছু
কাগজপত্রে কিছু তথ্যগত পরিবর্তনও করে।”
নথিপত্র অনুসন্ধানে
দুদক জানতে পারে, জি কে বিল্ডার্স (প্রপাইটরশিপ ফার্ম) এবং দ্যা বিল্ডার্স
ইঞ্জিনিয়ার্রিং নামের অন্য দুটি একক মালিকানার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল।
যে দুটির পরিবর্তে
দরপত্রে জি কে বি এন্ড কোম্পানি লিমিটেড এবং দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েটস
লি. নাম দুটি ব্যবহার করা হয়েছে।
‘অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার
জন্য’ টেন্ডারে উল্লেখিত নির্মাণ কাজের ‘শর্ত পূরণের মত যোগ্যতা না থাকা স্বত্তেও’
কাজটি এই প্রতিষ্ঠান নেয় বলে দুদকের অভিযোগ।
ওই সময় চবি ছাত্রলীগের
একাংশ এই কাজের দরপত্র সংগ্রহে অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাধাও দিয়েছিল। এ
নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছিল।
মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান
তখন দরপত্র জমা দিয়েছিল।
সেই সময় ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র যাচাই করতে পরামর্শ দেয়ায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি থেকে বাদ
দেয়া হয় কমিটির সদস্য সীতাকুণ্ড উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী
মো. নুরুল ইসলাম খানকে।
দুদকের মামলার অভিযোগে
বলা হয়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের অযোগ্যতা ও অদক্ষতার সুযোগে অপরাধজনক
বিশ্বাস ভঙ্গ করে অতি সুক্ষ তথ্যগত জালিয়াতির মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত
গ্রহণ প্রভাবিত করে ওই কার্যাদেশ হাসিল করা হয়।
ওই ঠিকাদারি কাজের
বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী খুন হন বলেও
অভিযোগ তার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং দিয়াজের পরিবারের, যে মামলাটি এখন
তদন্ত করছে সিআইডি।