মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি বাংলাদেশে আসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
বিশ্বের পাঁচ বৃহৎ উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার জোট ব্রিকসের উদ্যোগে পাঁচ বছর আগে গড়া নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (এনডিবি) যুক্ত হতে গত ডিসেম্বরেই বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশ ব্রিক্সের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যস্ততাতেই কেবল এই ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কৌশলগত এই ব্যাংকে যুক্ত হতে অনেক আগ থেকেই আগ্রহ দেখিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
এনডিবি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারও অংশ নিয়েছিলেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের গত ১২ বছরের অর্থনৈতিক উন্নতি তুলে ধরে বলেন, সদস্য পদের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তার সবগুলোই বাংলাদেশের রয়েছে। তাই অচিরেই বাংলাদেশ এনডিবির সদস্য পদ অর্জন করতে পারবে বলে আশা করছি।
এনডিবির প্রেসিডেন্টও বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়ে একমত পোষণ করেন। সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশর প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে অতি দ্রুতই পরিবারসহ বাংলাদেশ সফর করবেন বলে নিজের আগ্রহের কথা জানান প্রেসিডেন্ট মার্কোস প্রাদো ট্রয়জো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভার্চুয়াল সভায় বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী এবং এনডিবির প্রেসিডেন্টের মধ্যে এনডিবিতে বাংলাদেশের ভূমিকা, নতুন ব্যাংকের ঋণের শর্তসহ বিনিয়োগ খাত এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে এনডিবির সদস্যভুক্তির মূল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তীতে আরও আলোচনা হবে।
এনডিবির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালের ২১ জুলাই। ব্যাংকটির মোট মূলধন ১০ হাজার কোটি ডলার। আর প্রাথমিক মূলধন ৫ হাজার কোটি ডলার।
২০১৬ সাল থেকে এনডিবি অবকাঠামো এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্রিক্সভুক্ত দেশে ১.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। ব্যাংকটি অবকাঠামো, সেচ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পয়:নিষ্কাশন, সবুজ
জ্বালানি (পরিবেশবান্ধব জ্বালানি) এবং নগর উন্নয়ন খাত সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ দিয়ে থাকে।
ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে সদস্য রাষ্টগুলোর কার্যক্রমে ব্যাংকটি অংশগ্রহণ করছে।
২০২০ সালে ব্যাংকটি একসাথে ৭২টি প্রকল্পে ২৫দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের অনুমোদন দিয়েছে।
এনডিবির সদস্য পদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য ব্যাংকের পণ্য এবং পরিষেবা ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, সহনীয় সুদ হারে ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি; ব্যাংকের কৌশল, নীতি, পদ্ধতি ও কার্যক্রমে অংশগ্রহনের সুযোগ এবং সদস্য দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।