ওই হোটেল প্রকল্পের
প্রায় ৭৭ কোটি টাকার শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় পি কে হালদারের সঙ্গে
তার চার সহযোগীকেও আসামি করা হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রামের
মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালতে মামলাটি করেন আব্দুল আলিম চৌধুরী (৫০) নামের
এক ব্যবসায়ী। যিনি নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকার প্রতিষ্ঠান ক্লইস্টন গ্রুপের মালিক।
মামলার অন্য আসামিরা
হলেন- ঢাকার বনানীর মো. জাহাঙ্গীর আলম, উত্তরার সিদ্দিকুর রহমান, পি অ্যান্ড এল ইন্টারন্যাশনাল
লিমিটেডের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী এবং পিরোজপুরের বাসিন্দা রতন কুমার বিশ্বাস।
মামলার বাদি আব্দুল
আলিম চৌধুরীর আইনজীবী রুবেল পাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কক্সবাজারে একটি
পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন আব্দুল আলিম চৌধুরী। সেজন্য তার কিছু
ঋণ হয়। এছাড়া আগে থেকে রিলায়েন্স ফিন্যান্স লিমিটেডে উনার কিছু ঋণ ছিল।
“এক পর্যায়ে পি কে
হালদার তাকে প্রস্তাব দেন পাঁচ তারকা হোটেলের শেয়ার ট্রান্সফার করে দিলে তিনি লোন এডজাস্ট
করে দিবেন। পরবর্তীতে পি কে হালদার ওই পাঁচ তারকা হোটেলে বিনিয়োগ করবেন, এমন আশ্বাসের
ভিত্তিতে আব্দুল আলিম চৌধুরীর নামে থাকা শেয়ার হস্তান্তর করেন।”
আইনজীবী রুবেল পাল
বলেন, “পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা শেয়ার বাবদ কোনো টাকা পরিশোধ করেননি। পরবর্তীতে
প্রতিশ্রুতি মতে ঋণ এডজাস্টও করেননি, এমনকি ওই প্রকল্পে বিনিয়োগও করেননি।
“প্রতারণার মাধ্যমে
হোটেলের শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগটি আদালত গ্রহণ করে তদন্ত শেষে ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন
জমা দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।”
আব্দুল আলিম চৌধুরীর
মালিকানাধীন ক্লইস্টন ফুডস অ্যান্ড একোমোন্ডেশন লিমিটেডের অধীনে কক্সবাজারে পাঁচ তারকা
হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
মামলার এজাহারে আব্দুল
আলিম চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, ২০১০ সালে কক্সবাজারে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ
নিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের আশ্বাসের ভিত্তিতে নিজের মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠান
থেকে এই প্রকল্পে তিনি টাকা বিনিয়োগ করেন।
এর আগে ২০০৭ সালের
দিকে পি কে হালদারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর পি কে হালদার রিলায়েন্স ফিন্যান্স লিমিটেডের
এমডি হন। তখন রিলায়েন্স ফিন্যান্স থেকে আব্দুল আলিম চৌধুরীর মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানে
কিছু ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।
পাঁচ তারকা হোটেল প্রকল্পে
যখন আব্দুল আলিম চৌধুরী ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে
চাপ দিতে থাকে তখন পি কে হালদারও রিলায়েন্স ফিন্যান্সের দেওয়া ঋণ পরিশোধে চাপ দিতে
শুরু করেন। এক পর্যায়ে পি কে হালদার পাঁচ তারকা হোটেলটির শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেন
বলে এজাহারে উল্লেখ করেন আব্দুল আলিম চৌধুরী।
ওই কোম্পানির মোট নয়
লাখ ৫০ হাজার শেয়ারের মধ্যে আব্দুল আলিম চৌধুরীর নামে ছিল ছয় লাখ আট হাজার শেয়ার, যা
মোট শেয়ারের ৬৪ শতাংশ।
২০১৪ সালের ৪ জুন পি
কে হালদার ও তার সহযোগীদের কাছে পাঁচ লাখ ২২ হাজার পাঁচশ শেয়ার হস্তান্তরের জন্য চুক্তিবদ্ধ
হন আব্দুল আলিম চৌধুরী, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৫৫ শতাংশ।
এরমধ্যে পি অ্যান্ড
এল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের যে প্রতিষ্ঠানটির ৯৮ শতাংশের মালিক পি কে হালদার সেই
প্রতিষ্ঠান ৩৫ শতাংশ, পি কে হালদার নিজে নয় শতাংশ, জাহাঙ্গীর আলম ও সিদ্দিকুর রহমান
প্রত্যেকে পাঁচ শতাংশ করে এবং রতন কুমার সরকারের নামে এক শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করা
হয়।
শেয়ার বিক্রির টাকা
কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা থাকলেও কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে জানান আইনজীবী রুবেল
পাল।
তিনি বলেন, “এক পর্যায়ে
পি কে হালদার রিলায়েন্স ফিন্যান্স লিমিটেডে আব্দুল আলিম চৌধুরী, তার ভাই ও স্ত্রীর
নামে থাকা ঋণ সমন্বয় করে বাকি টাকা শেয়ার বাবদ পরিশোধ করবেন বলে জানান। সেটিও করেননি।”
মামলার এজাহারের তথ্য
অনুযায়ী, পাঁচ তারকা হোটেল প্রকল্পের ৫৫ শতাংশের শেয়ার সাড়ে ৭৭ কোটি টাকা মূল্য ধরে
হস্তান্তর চুক্তি হয়েছিল। আর রিলায়েন্স ফিন্যান্স লিমিটেডে বাদী, তার ভাই ও স্ত্রীর
নামে ৭৪ কোটি টাকা আগে থেকে ঋণ ছিল।
পরবর্তীতে আব্দুল আলিম
চৌধুরীকে ওই পাঁচ তারকা হোটেল প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পি কে হালদার
ও তার সহযোগীরা পদত্যাগে বাধ্য করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।