ক্যাটাগরি

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে লড়বেন না হংকং নেত্রী ক্যারি লাম

রাজনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি উথাল-পাথাল এবং বিতর্কিত একটি মেয়াদে শাসন পরিচালনা করে আসা ক্যারি লাম সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

হংকং এর প্রধান নির্বাহী হিসাবে লামের শাসনামলে হংকংয়ে গনতন্ত্রপন্থিদের টানা সরকার বিরোধি বিক্ষোভ সেখানে চীনের নিয়ন্ত্রণকেই আরও জোরদার করেছে, ক্ষুন্ন হয়েছে নাগরিক স্বাধীনতা।

৬৪ বছর বয়সী লাম ২০১৭ সালে বেইজিংয়ের পছন্দের ব্যক্তি হিসেবেই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে আর লড়বেন না সেকথা একবছর আগেই চীনকে জানিয়েছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনের জানিয়েছেন লাম।

হংকংয়ে রোববার থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়ন পর্ব। নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে ২৮ মে তে। এর আগে কোভিডের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী প্রতি পাঁচবছর পরপর নির্বাচিত হন। ক্যারি লামের মেয়াদ ছিল স্থানীয় এবং বৈশ্বিক সংকটে জর্জরিত। আরেক মেয়াদে ক্ষমতায় না থাকতে চাওয়ার কারণ হিসাবে লাম নিজের পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “আমার কাজের মূল্যায়ন বা হংকং সরকারের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের প্রশ্নে আমি এই সিদ্ধান্ত নেইনি। আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

“শুধু একটিই কারণ আছে, আর তা হল পরিবার… তারা মনে করে, আমার বাড়ি ফেরার সময় হয়েছে।” চীনও তার এ সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান হংকংয়ের এই প্রধান নির্বাহী।

বিবিসি জানায়, লামের স্থলাভিষিক্ত হবেন কে তা নির্ধারিত হবে একটি কমিটির বৈঠকে। ১৫০০ সদস্যের এ কমিটির সদস্যের প্রায় সবাই বেইজিংপন্থি। আগামী মাসে তারা হংকংয়ের নতুন প্রধান নির্বাহী নির্বাচন করবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, লামের পর তার জায়গায় হংকংয়ের মুখ্য সচিব জন লির নাম সামনে আসছে। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জন লি হংকংয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী কর্মকর্তা।

২০১৯ সালে হংকংয়ে বিক্ষোভের সময় লি ছিলেন নেতৃস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। বিশ্লেষকরা বলছেন, হংকংয়ে নিরাপত্তার দিকে মনোনিবেশ করতেই তাকে ক্ষমতায় বসাতে চাইছে চীন।