হাসপাতালে প্রতিদিন
গড়ে ১৫ থেকে ৩৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সেবিকা নাসরিন সুলতানা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে
সরেজমিনে গিয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের ছয় শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কোনো শয্যা খালি
পাওয়া যায়নি। শয্যা সংকট থাকায় সেখানে ১০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া একটি নতুন ওযার্ড
খোলা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা
নিতে যাওয়া রোগীর স্বজন আসমা বেগম বলেন, তার স্বামী ডায়রিয়ার আক্রান্ত হওয়ায় সকালে
হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছেন। ঈদের ছুটিতে চিকিৎসক নেই।
অন্য যারা আছেন তারা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
সেবিকা নাসরিন সুলতানা
বলেন, “জনবল সংকটের কারণে ১৬ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি আমাকে একাই সামাল দিতে হচ্ছে।
আমি রীতিমত হিমশিম খাচ্ছি। একটু বসার সময় পাচ্ছি না। কোনো কোনো সময় রোগীর স্বজনদের
দিয়েও কাজ করাতে হচ্ছে।”
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের
তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মার্চ মাসের
শেষ দিক থেকে বাগেরহাট ডায়রিয়া রোগীর চাপ বাড়তে শুরু করে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২৫
জন রোগী এখানে ভর্তি হচ্ছে।
এই ঈদে ডায়রিয়ার প্রকোপটা
আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় শিশুদের ছয় শয্যার স্থলে ১৫
শয্যা করা হয়েছে। তাতে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পুরুষ ও নারীদের জন্য আরও ১৬ শয্যা
বাড়তি প্রস্তুত করা হয়েছে।
“জনবল সংকট আগে থেকেই
ছিল; তা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই জনবল দিয়ে রোগীদের সেবা দিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের
রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। জনবল সংকট থাকলেও ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবা দিয়ে
যাচ্ছে।”
আবহাওয়া পরিবর্তন এবং
সুপেয় পানির অভাবে মানুষ ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি সবাইকে সুপেয় পানি
পান করা এবং খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে খাবার গ্রহণ
করার পরামর্শ দেন।