শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পর নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়ে সাদা দল সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাচন পরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছে।
শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ মনোনীত নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক জাকির হোসেন ভূইয়া ৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ভোট হবে। নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা যাবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। মনোনয়ন পত্র বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
প্রতি বছরই ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একবছর মেয়াদী শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। নির্বাচনে প্রধানত আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।
শিক্ষক সমিতির বর্তমান কার্যকরী পরিষদের ১৫ সদস্যের কমিটিতে সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে থাকলেও বাকি ১৪ সদস্য নীল দলের হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
সাদা দল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যেতে না চাইলেও কার্যকরী পরিষদে নীল দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিক্ষকদের অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। ক্যাম্পাসের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ। অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের বড় একটি অংশ ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন।
“তাদের ক্যাম্পাসে এনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আমরা ফেলতে চাই না। যেখানে ডাকসু ইলেকশান বন্ধ রয়েছে, সেখানে শিক্ষক সমিতির ইলেকশান করা যৌক্তিক মনে করছে না সাদা দল।“
নির্বাচন স্থগিত না করা হলে সাদা দল অংশ গ্রহণ করবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এবিষয়ে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন স্থগিত করতে আমরা দাবি জানিয়েছি।“
নির্বাচন পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক জাকির হোসেন ভূইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাদা দল নির্বাচন স্থগিত করতে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কার্যকরী পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।
শিক্ষক সমিতির কার্যকরী পরিষদে সাদা দলের একমাত্র সদস্য ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক লুৎফর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নির্বাচন নিয়ে শুরুতে নীল দলের মধ্যেও ডিভিশন ছিল। এক দল নির্বাচনের পক্ষে, আরেক দল নির্বাচনের বিপক্ষে ছিল। পরে এক্সিকিউটিভ মিটিংয়ে তারা বলছেন এই সময়েই নির্বাচন হবে।
“এখন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সাদা দলের দাবির বিষয়ে আমরা কার্যকরী পরিষদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করছি।“