ক্যাটাগরি

এবাদতের জায়গা মসজিদ-মন্দিরে ‘রাজনীতি হতে পারে না’

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম
নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার
ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ, সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে
এবং মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের প্রতিরোধের আহ্বানে এই সমাবেশের
আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে শাহ আলম বলেন,
“মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সমর্থকরা, পরাজিত অপশিক্তই নানা অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধ
ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সেই অপশক্তিই ভাস্কর্য ইস্যুকে
সামনে এনে এখন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দিয়ে তারা স্বাধীনতার
চেতনাকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে, অসাম্প্রদায়িকতার চেতনাকে কবর দিতে চায়।”

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি
নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “মসজিদ-মন্দির এবাদতের জায়গা, এখানে রাজনীতি হতে
পারে না। রাজনীতি থেকে যদি ধর্মকে পৃথক করা না যায় তাহলে হানাহানি বন্ধ হবে না। যারা
এখন ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে তারা কখনও মানুষের দুর্ভোগ-সমস্যা নিয়ে, মানুষের
অভাব-অভিযোগ নিয়ে কথা বলে না। শোষিত-বঞ্চিত, গরিব-মেহনতি মানুষ যাতে মুক্তির জন্য লড়াই
করতে না পারে সেজন্য সুকৌশলে এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”

মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম
বলেন, “উগ্র সাম্প্রদায়িক, ধর্মান্ধ-মৌলবাদী অপশক্তিকে পরাজিত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা
এনেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা- ধর্ম হবে
যার যার, রাষ্ট্র হবে সবার।

“পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে
হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে আবারও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হতে শুরু করে। জিয়া ক্ষমতায়
এসে সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করেছে আর এরশাদ ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছে।
মৌলবাদী শক্তিকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বা ক্ষমতা পাকাপোক্ত
করার জন্য সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে ব্যবহার করছে। শাসকগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা এবং অর্থনৈতিকসহ
নানা সুযোগ-সুবিধার ফলে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

তিনি বলেন, “মুখে মুক্তিযুদ্ধের
চেতনার কথা বললেও মৌলবাদের উত্থানে বর্তমান সরকার ভূমিকা পালন করে চলেছে। বঙ্গবন্ধুর
ভাস্কর্য ভাঙার পরও সরকার তার মৌলবাদ-তোষণ নীতি বদলায়নি।

সরকারের প্রতি আহ্বান
জানিয়ে শাহ আলম বলেন, “এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে দাঁড়ান। ক্ষমতার জন্য তাদের
সাথে আপস করবেন না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দাঁড়ান।”

সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার
সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি
চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সাহা, সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, উজ্জ্বল
শিকদার ও অমিতাভ সেন প্রমুখ।