নতুন তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত ১৭ দিন ধরে হাজার হাজার ভারতীয় কৃষক টানা আন্দোলন করে যাচ্ছেন।
তারমধ্যেই শনিবার ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের ৯৩তম বার্ষিক সভায় মোদী আরও একবার কৃষি সংস্কার আইনের সুফল তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
বলেন, ‘‘কৃষি পরিকাঠামো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ফসল মজুদসহ ভিন্ন ভিন্ন কৃষি নির্ভর বাণিজ্যক্ষেত্রগুলির মধ্যে অদৃশ্য দেয়াল আছে। নতুন আইনের ফলে ওইসব দেয়াল সরে গিয়েছে।
‘‘ফলে নতুন কৃষি আইন কৃষকদের কাছে নতুন দিকের উন্মোচন করবে। নতুন আইন কৃষকদের কাছে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও নতুন বাজার পৌঁছে দেবে। দেশের কৃষকরাই এর থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন।”
কিন্তু কৃষকদের আশঙ্কা নতুন কৃষি আইনের ফলে সরকার আর ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কিনতে বাধ্য থাকবে না। বাজারের উপর সরকারের নজরদারিও আর থাকবে না। ফলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা বড় বড় ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানির হাতে চলে যাবে এবং কৃষকদের জীবন তাদের দয়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
ভারতের বিশেষ করে উত্তরের রাজ্যগুলোর কৃষকদের অন্তত ৩০টি সংগঠন এবারের আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে।
সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি, নতুন তিন আইনের প্রত্যাহার। যতদিন পর্যন্ত সরকার ওই তিনটি আইন বাতিল না করবে ততদিন পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন। তবে তারা আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৃষক নেতাদের কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু এই অচলাবস্থার অবসান হয়নি। আন্দোলনরত কৃষকরা রাজধানী দিল্লিতে প্রবেশ করতে চাইছেন। তারা দিল্লিমুখী বিভিন্ন রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে। রেলপথ অবরোধ করার হুমকিও দিয়েছে।
‘ভারতীয় কৃষাণ’ দলের প্রধান বলবীর সিং রাজওয়াল বলেন, ‘‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাই। যদি তারা আমাদের আন্দোলনের সমাপ্তি চায় তবে তাদের অবশ্যই আমাদের দাবি মেনে নিতে হবে।”