শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক
সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারি কর্মকর্তা ফোরামের এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে যে ন্যক্কারজনক
হামলা হয়েছে, রাতের অন্ধকারে যারা ভাঙচুর করেছে, সেই পিশাচদের প্রতি আমাদের তীব্র
ঘৃণা ও নিন্দা প্রকাশের ভাষা নেই। দেশ যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে
যাচ্ছে, তখন আমরা দেখেছি বার বার দেশটাকে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে।”
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য
ভাঙচুর করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণ হয়েছে দাবি করে পুলিশ প্রধান বলেন, “বঙ্গবন্ধু আমার
দেশের সংবিধানের অংশ। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানচিত্র দিয়েছেন,
দিয়েছেন বাংলা ভাষার স্বীকৃতি। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর হামলা মানে সংবিধানের উপর হামলা, রাষ্ট্রের উপর হামলা,
দেশের জনগণের উপর হামলা।
“আমি প্রতিবাদের কথা
বলব না। কারণ আমরা সরকারের অংশ। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে
যেকোনো ধরনের হামলা আমরা অবশ্যই এ দেশের প্রচলিত আইন আছে, তার মাধ্যমে মোকাবেলা করব।
রাষ্ট্র অবশ্যই তার যে বিধিবিধান আছে, দেশের যে আইন আছে তার মাধ্যমে তাদেরকে কঠোর হস্তে
মোকাবেলা করবে। আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে, রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ১৮ কোটি মানুষকে
নিশ্চিত করতে চাই, আশ্বস্ত করতে চাই আমরা তাদেরকে কঠোর হস্তে মোকাবেলা করব। বঙ্গবন্ধুর
ভাস্কর্য ভাঙচুর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণ, সংবিধানের বিরুদ্ধাচরণ।”
তিনি বলেন, “আজকে আমরা
দেখি অনেকে আস্ফালন করেন, পেশিশক্তি দেখান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। গণতান্ত্রিক দেশ, অসাম্প্রদায়িক
দেশ,অসাম্প্রদায়িকতার উপর দাঁড়িয়ে আমাদের উত্তরসূরীরা, পূর্বসূরী এ দেশ পরিচালনা
করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ উপহার দিয়ে গেছেন, আমরা এই দেশের মূলনীতি মূলমন্ত্রকে
সংরক্ষণের জন্য বদ্ধপরিকর। রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের কর্মচারীরা
প্রত্যেকেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
বেনজীর আহমেদ বলেন,
“দেশটাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মৌলবাদী গোষ্ঠী তে পরিণত করতে চান কেন? কিছু হলেই ঢাকা
শহরে জঙ্গি মিছিল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরবে এ রকম মিছিল দেখিনা। জঙ্গি
মিছিল করে দেশটাকে জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন কেন? কার উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান?
দেশবাসীকে, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে এই বিষয়গুলো বুঝতে হবে, আমাদের বুঝতে হবে…কারা দুশমন, কারা স্বেচ্ছাচারিতা
করছে, কারা ইসলামকে বিতর্কিত করছে।”
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের
২৯টি ক্যাডারের প্রতিনিধিরা এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর
মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস।
সভাপতির বক্তব্যে আহমদ
কায়কাউস বলেন, “আজকে এখানে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করছি যে, আমাদের জীবদ্দশায় জাতির পিতার
অসম্মান হতে দেব না। এটাই হল আমাদের আজকের অঙ্গীকার। জাতির পিতার প্রতি আমরা কতটুকু
ঐক্যবদ্ধ এটা স্পষ্ট। ২৯টি ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মাঝে অনেক সময় অনেক বিষয়
নিয়ে মতৈক্য হয় কিন্তু আজকে আমরা বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে প্রতিবাদ সমাবেশে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
এটা হল জাতির পিতার শক্তি।”
এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের
সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হেলাল
উদ্দিন বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি স্বাধীনতার ৫০ পূর্তিকালেও
দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবিধানিকভাবে
জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধু আমাদের প্রাণের স্পন্দন। বঙ্গবন্ধুর নামের সাথে মিশে আছে আমাদের
আবেগ-অনুভূতিও স্পন্দন। জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বঙ্গবন্ধু। তিনি স্বাধীনতার সাথে ওতপ্রোতভাবে
জড়িত।
“বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে
কেউ যখন কথা বলে আমাদের প্রাণে লাগে। এ ব্যাপারে দেশের ১৭ কোটি মানুষের দ্বিমত থাকার
কথা নয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো প্রকার অপমান, অবজ্ঞা সহ্য করব না, মেনে নেব না।”
খাদ্য সচিব মোসাম্মৎ
নাজমানারা খানুম, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, বিসিএস স্বাস্থ
ক্যডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক আ ম সেলিম রেজা, বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের
সভাপতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার, মাধ্যমিক
ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক প্রমুখ সমাবেশে
উপস্থিত ছিলেন।