ক্যাটাগরি

কোভিড-১৯: জার্মানি, রাশিয়ায় একদিনে রেকর্ড মৃত্যু

জার্মানিতে মৃত্যুর পাশাপাশি কোভিড সংক্রমণও রেকর্ড গড়েছে। ২৪ ঘন্টায় ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২৯,৮৭৫ জনের। মহামারী শুরুর পর থেকে দেশটিতে একদিনে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর এই সংখ্যা সর্বাধিক।

জার্মানির রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রবার্ট কখ ইন্সটিটিউট শুক্রবার আক্রান্ত-মৃত্যুর ওই পরিসংখ্যান দিয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার কমাতে জার্মানিতে ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কঠোর লকডাউন আরোপের দাবি ‍উঠেছে৷ 

জার্মান অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “আমাদেরকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। আগে যা পরিকল্পনা করা হয়েছিল তার চেয়েও এখন আরও বেশিকিছু করতে হবে।”

গত ২ নভেম্বর থেকে জার্মানিতে আংশিকভাবে লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্বও বিধিও জারি আছে। তবে এতে দেশে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়নি৷

এর মধ্যেই আসন্ন বড়দিন উপলক্ষে জার্মানিতে বিধিনিষেধ শিথিলের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। কিন্তু সংক্রমণ বাড়তে দেখে শীর্ষ কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। রবার্ট কখ ইন্সটিটিউটের প্রধান কর্মকর্তা পরিস্থিতি ‘খুবই নাজুক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলও এ সপ্তাহে পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে এক আবেঘন ভাষণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। বলেছেন, “দিনে ৫০০ মানুষের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।”

শুক্রবার জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিগেল ওয়েবসাইটে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার একমাত্র উপায় হচ্ছে অবিলম্বে লকডাউন দেওয়া; “আমরা বড়দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলে মাসের পর মাস ধরে কোভিডের উল্লম্ফনের সঙ্গে আমাদেরকে যুঝতে হবে।”

ওদিকে, রাশিয়া তাদের স্পুৎনিক-ভি টিকা গত সপ্তাহের শেষভাগ থেকে চিকিৎসক, শিক্ষক ও সমাজ কর্মীদেরকে দেওয়া শুরু করলেও দেশটিতে লাগামহীনভাবে বাড়ছে সংক্রমণ এবং মৃত্যু।

শুক্রবার রাশিয়ার মহামারী বিষয়ক টাস্ক ফোর্স গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে রেকর্ড ৬১৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫,৮৯৩ জনে।

রাজধানী মস্কো আর সেন্ট পিটার্সবার্গের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তারপরও দেশটি কড়া লকডাউনের পথে হাঁটছে না বরং কিছু জায়গা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে। আর এর সঙ্গে চলছে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ।

ঊর্ধ্বতন এক রুশ কর্মকর্তা বলেছেন, এ সপ্তাহের শেষেই দেশজুড়ে টিকাদান শুরু হবে। এই টিকা কর্মসূচির মধ্যেই রাশিয়া যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে একজোট হয়ে অক্সফোর্ড ও স্পুৎনিক টিকার মিলিত ট্রায়ালের ঘোষণা দিয়েছে।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং স্পুৎনিক ভি-র সম্মিলিত পরীক্ষা চালিয়ে এই বিজ্ঞানীরা দেখতে চান এতে মানুষ কোভিড-১৯ থেকে আরও বেশি সুরক্ষা পায় কিনা।