ক্যাটাগরি

পান্থপথ কালভার্ট থেকে ৭৪ টন বর্জ্য অপসারণ

শনিবার দুপুরে রাজধানীর
পান্থকুঞ্জ পার্ক থেকে পান্থপথ বক্স কার্লভার্টের বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পানি প্রবাহ
সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

দুপুরে এই বক্স কালভার্ট
থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা
বদরুল আমিন।

গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা
ওয়াসা থেকে সব খালের দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে
হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা পান্থপথ কালভার্ট হতে বর্জ্য
অপসারণ কাজ শুরু করেছি। এরপর আমরা সেগুনবাগিচা কালভার্ট হতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম
পরিচালনা করব।

“পাশাপাশি আমাদের জিরানী,
মান্ডা ও শ্যামপুর খালে প্রাথমিক পরিচ্ছন্নতা কাজ চলছে। তারপর সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ
কার্যক্রম পরিচালনা করব।”

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে
কালভার্টের ভেতরে কী আছে, তা দেখার পর পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলে
জানান ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “আমরা মার্চের
মধ্যে এ দুটি বক্স কালভার্ট ও তিনটি খাল হতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ করতে চাই।
এতে করে আমরা এপ্রিলের শুরু হতে ঢাকা শহরকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে পারি। সে পরিকল্পনা
নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি।

“আশা করছি, মার্চের
মধ্যে আমরা তিনটি খাল এবং দুটো কালভার্ট পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে পারব। যদি আমরা
এ সময়ের মধ্যে খাল ও কালভার্ট পরিষ্কার করতে পারি তাহলে আমরা বিশ্বাস করি, এ বছর আমরা
জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাব।”

আমিন উল্লাহ নুরী জানান,
ওয়াসার সঙ্গে দুই সিটি করপোরেশনের যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে
ওয়াসার কারিগরি সহযোগিতা, যন্ত্রপাতি ও জনবল সহযোগিতা নেবে ডিএসসিসি। এ অভিযানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের
নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে
প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন বলেন, পান্থকুঞ্জ পার্কের
ভেতরে যে বক্স কার্লভার্ট রয়েছে সেটির গভীরতা দুই রকম আছে। কোথাও ১১ ফুট আবার কোথাও
২০-২২ ফুট আছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কারিগরি কমিটির সহযোগিতায় সঠিক মাপটা বের
করা হবে।

কেবল মুখ (ড্রেনেজ
পিট) পরিষ্কার করাটা বক্স কালভার্টের ভেতরের পানিপ্রবাহ সৃষ্টিতে কতটা ফলপ্রসূ হবে
সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শুধু কালভার্টের (ড্রেনেজ পিট) পরিষ্কার করলে হবে না।
ভেতরে লোক প্রবেশ করাতে হবে। মেশিন প্রবেশ করাতে হবে। ক্রেন প্রবেশ করাতে হবে। প্রেসার
দিয়ে পানি দিতে হবে। সাকার মেশিন ব্যবহার করতে হবে। সাকশন করে উঠাতে হবে।

“আমরা দেখলাম, কাল
কালভার্টের ভেতরের কানেকশন মুখগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, সে মুখগুলো ছুটাতে হবে। আমরা ২০০
মিটার করে আগাব। পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।”

কালভার্টের উপর কোনো
অবৈধ স্থাপনা নেই জানিয়ে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলেন, “সীমানা নির্ধারণপূর্বক
বোঝা যাবে কালভার্টের বাইরে কোনো অবৈধ স্থাপনা আছে কি না। কালভার্টের ভেতর কোনো স্থাপনা
নেই।”

পান্থপথ বক্স কালভার্টে
মোট ২৪টি মুখ (ড্রেনেজ পিট) রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ে পাঁচটি
ড্রেনেজ পিট থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

এ সময় পাঁচটি ড্রেনেজ
পিট থেকে ছয় ট্রিপে প্রায় ৭৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। রোববার সকাল ৯টা থেকে পান্থকুঞ্জ
পার্কের ভেতরে এবং রাতের বেলায় কাঠালবাগান ঢাল থেকে পান্থপথ মোড় পর্যন্ত পিটগুলোর
মধ্যবর্তী অংশে ড্রেজারের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ করা হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে
১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বাবলা এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ উপস্থিত ছিলেন।