ক্যাটাগরি

মহামারীর বিবেচনায় জামিন পেলেন মীর নাছির

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ রোববার এই জামিন আদেশ দেয়।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, “করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় জামিন আদেশ দেওয়া হল।”

আদালতে বিএনপি নেতা মীর নাসিরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান।

জরুরি অবস্থার সময় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মীর নাসির ও তার ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ গুলশান থানায় দুদক এই মামলা করে।

ওই বছরের ৪ জুলাই বিশেষ জজ আদালতের রায়ে মীর নাসির উদ্দিনকে ১২ বছর এবং মীর হেলালকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মীর মো. নাছির উদ্দিন, ফাইল ছবি

মীর মো. নাছির উদ্দিন, ফাইল ছবি

এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা হাই কোর্টে আপিল করেন। হাই কোর্ট ২০১০ সালের ১০ আগস্ট মীর নাছিরের এবং একই বছরের ২ আগস্ট মীর হেলালের সাজা বাতিল করে রায় দেয়।

হাই কোর্টের সেই রায় বাতিল চেয়ে দুদক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন করে।

আপিল বিভাগ ২০১৪ সালের ৩ জুলাই এক রায়ে হাই কোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় হাই কোর্টেই বিচার করার নির্দেশ দেয়।

এ নির্দেশে পুনরায় শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর রায় দেয় হাই কোর্ট। তাতে মীর নাছির ও তার ছেলে মীর হেলালকে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখা হয়।

গত বছরের ৬ জানুয়ারি হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। ১৫৯ পৃষ্ঠার সেই রায়ের অনুলিপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।

কিন্তু তারা আত্মসমর্পণ না করেই হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। গত বছর ১৫ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ তাদের লিভ টু আপিল খারিজ করে দেয়।

এরপর গত বছর ৮ অক্টোবর ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মীর নাছির। সেদিন বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করার পাশাপাশি জামিন চেয়ে আবেদন করেন মীর নাছির।

গত বছর ১৬ নভেম্বর আপিল বিভাগ মীর নাছিরের জামিন খারিজ না করে আবেদনটি ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রাখে। 

এদিকে একই মামলায় দণ্ডিত মীর মো.নাছির উদ্দিনের ছেলে মীর হেলাল উদ্দিন গত বছর ২৭ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এরপর হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন মীর হেলাল। সঙ্গে জামিন চেয়েও আবেদন করেন। 

সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান গত বছর ১ নভেম্বর মীর হেলালকে ২০২১ সালের ৩১ মে পর্যন্ত জামিন দেন এবং ওইদিন লিভ টু আপিলটি শুনানির জন্য রাখেন।