গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শনিবার ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থেমেছে ৪২১ রানে। ২৮৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে শ্রীলঙ্কা দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ১৫৬ রানে।
এখনও ১৩০ রানে পিছিয়ে আছে তারা। ৭৬ রান নিয়ে খেলছেন থিরিমান্নে। শূন্য রানে অপরাজিত আছেন নাইটওয়াচম্যান লাসিথ এম্বুলদেনিয়া।
চার উইকেটে ৩২০ রান নিয়ে খেলতে নামা ইংল্যান্ডের দিনের শুরুটা ভালো হয়নি। ৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা জস বাটলার বেশিদূর যেতে পারেননি। ৩০ রানে ইংলিশ কিপার-ব্যাটসম্যানকে থামান আসিথা ফার্নান্দো। বাঁহাতি এই পেসার পরের বলে ফিরিয়ে দেন স্যাম কারানকে।
পরের ওভারেই এম্বুলদেনিয়াকে স্লগ-সুইপে চার হাঁকিয়ে রুট ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২৯১ বলে। এর আগেই ইংলিশ অধিনায়ক স্পর্শ করেন আট হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক।
ডাবল সেঞ্চুরির পথে আট হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন জো রুট। ছবি: ইসিবি
রুটের এটি চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি, অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয়। ইংল্যান্ডের হয়ে তার চেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরি আছে আর কেবল অ্যালেস্টার কুক (৫টি) ও ওয়ালি হ্যামন্ডের (৭টি)
অষ্টম ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে আট হাজার রানের মাইলফলক ছুঁলেন তিনি। লাগল ১৭৮ ইনিংস। ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে কম ইনিংসে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে পেরেছেন কেবল কেভিন পিটারসেন, ১৭৬ ইনিংস।
সফরকারীরা শেষ ৬ উইকেট হারায় ৪৯ রানে। শেষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কে যেতে পারেন কেবল স্টুয়ার্ট ব্রড, অপরাজিত ১১। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়া রুট করেন ২২৮ রান। ১৮ চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তার ৩২১ বলের ইনিংস।
৪ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা। বাঁহাতি স্পিনার এম্বুলদেনিয়ার শিকার ৩টি।
প্রথম ইনিংসে ১৩৫ রানে অলআউট হওয়ার দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার শুরুটা হয় দারুণ। শতরানের উদ্বোধনী জুটি উপহার দেন পেরেরা ও থিরিমান্নে। দ্বিতীয় সেশনের পুরোটাই কাটিয়ে দেন এই দুজন।
৯১ বলে ফিফটি পূরণের পর বেশিদূর যেতে পারেননি পেরেরা। ১০৯ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৬২ রান করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন কারান।
দৃঢ় ব্যাটিংয়ে থিরিমান্নে ফিফটি তুলে নেন ১২৮ বলে। এরপরই একবার জীবন পান তিনি। গালিতে তার ক্যাচ ফেলেন ডম সিবলি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে টেস্টে টানা সবচেয়ে বেশি চার ইনিংসে শূন্য রানে আউটের রেকর্ড গড়ার পর অবশেষে রানের খাতা খুলতে পারেন কুসল মেন্ডিস। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি; কিপারকে ক্যাচ দিয়ে থামেন ১৫ রানে। এরপর আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে শেষ হয় দিনের খেলা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৪৬.১ ওভারে ১৩৫
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩২০/৪) ১১৭.১ ওভারে ৪২১ (রুট ২২৮, বাটলার ৩০, কারান ০, বেস ০, লিচ ৪, উড ২, ব্রড ১১* ; এম্বুলদেনিয়া ৪৫-৪-১৭৬-৩, ফার্নান্দো ১৪-১-৪৪-২, হাসারাঙ্গা ১৫-১-৬৩-০, দিলরুয়ান পেরেরা ৩৬.১-২-১০৯-৪, শানাকা ৭-১-২২-০)
শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ৬১ ওভারে ১৫৬/২ (পেরেরা, ৬২, থিরিমান্নে ৭৬*, মেন্ডিস ১৫, এম্বুলদেনিয়া ০*; ব্রড ৮-৬-৩-০, কারান ৭-০-২৫-১, বেস ১৩-২-৩০-০, উড ৭-১-২০-০, লিচ ২০-২-৬৭-১, রুট ৬-০-১০-০)