ম্যাচের আগের দিন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুমিনুল হক বললেন, তামিম
ইকবালের উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী সাদমান ইসলাম নাকি সাইফ হাসান, সেটি ঠিক করা হবে ম্যাচের
সকালে।
ম্যাচের আগের দিন টিম ম্যানেজমেন্টের নানা সূত্র থেকে যা খবর, তাতে সম্ভাবনায়
এগিয়ে সাদমান ইসলাম। দুজনের কেউই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করেননি
ততটা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে সাদমান ঘণ্টা দুয়েক উইকেট থেকে অপরাজিত ছিলেন, সাইফ দুই ইনিংসেই
আউট হন অল্পতে। ওই ম্যাচের কারণেই শুধু নয়, অনুশীলনেও সাদমানকে মনে হয়েছে তুলনামূলক
একটু ভালো অবস্থায়।
সাদমানের দিকে পাল্লা ভারি আরেকটা কারণেও। তামিমের সঙ্গী হিসেবে একসময় জায়গা
প্রায় থিতু করার পথেই ছিলেন সাদমান। পরে একটু ফর্ম হারান, সঙ্গে যোগ হয় চোট। সব মিলিয়ে
তিনি ছিটকে যান বিবেচনার বাইরে। সেই সুযোগে অভিষেক হয় সাইফের। সুযোগ তিনি কাজে লাগাতে
পারেননি। সঠিক প্রক্রিয়ার কথা ভেবে সাদমানকে তার জায়গা ফিরে পাওয়ার সুযোগটা দেওয়ার
ভাবনা টিম ম্যানেজমেন্টের আছে।
তবে সাইফের খানিকটা সম্ভাবনা আছে কেবল তিনি ডানহাতি বলেই। বাংলাদেশ দলের
ব্যাটিং অর্ডারে তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসান এমনিতেই বাঁহাতি।
আরেকজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নেওয়া হবে নাকি ওপেনিংয়ে ডানহাতি-বাঁহাতি রাখা হবে, সেটিই
জোগাচ্ছে ভাবনার খোরাক।
বাংলাদেশের একাদশে আর একটি জায়গা নিয়েই থাকছে প্রশ্ন। তৃতীয় স্পিনার কে?
কুঁচকির চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও সাকিব এখনও বোলিংয়ের জন্য শতভাগ ফিট নন। ম্যাচের সকালেও
তার অস্বস্তি থাকলে সাকিবের সঙ্গে আরেক বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম থাকবেন একাদশে। দুই অফ
স্পিনার নাঈম হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের মধ্যে জায়গা পাবেন একজন। সাকিব পুরো ফিট
থাকলে তাইজুলের বাদ পড়ার সম্ভাবনা বেশি, সেক্ষেত্রে খেলবেন দুই অফ স্পিনারই।
পেস আক্রমণে মুস্তাফিজুর রহমান ও আবু জায়েদের থাকা একরকম নিশ্চিতই। আবু
জায়েদ বেশ কিছুদিন ধরেই টেস্টে দলের মূল পেসার। মুস্তাফিজ সবশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৭
সালের মার্চে। তবে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য বল ভেতরে আনার স্কিল রপ্ত করার পর টেস্টেও
তাকে খেলাতে উৎসাহী টিম ম্যানেজমেন্ট। বাঁহাতি পেসার হওয়ায় বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র যোগ
করা আর স্পিনারদের জন্য উইকেটে ক্ষত তৈরি করার কাজও হয়ে যাবে তাকে দিয়ে।