পরে ছুরি দিয়ে নিজের পা কেটে, মুখ ও পা বেঁধে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদে কেয়ারটেকার জমির তার মনিবকে হত্যার দায় স্বীকারের পাশাপাশি ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, খোয়া যাওয়া তিনটি মোবাইল ও একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতকানিয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন।
এই হত্যার ঘটনায় আব্দুল হকের ছেলে নেজাম উদ্দিনের করা মামলায় জমিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জমিরের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলায়।
গত সোমবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে সাতকানিয়া উপজেলার কেঁউচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হকের (৮০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আব্দুল হকের মাথার পেছনে বাঁ দিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের জখম, বাঁ চোখ ছিল ফোলা, বাঁ হাতে ঘষা লাগার চিহ্ন ছিল বলে ওইদিন জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. জাকারিয়া রহমান।
গৃহকর্মী বাড়িতে গিয়ে আব্দুল হককে রক্তাক্ত এবং কেয়ারটেকার জমিরকে পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান।
ওসি আনোয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের দিন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জমিরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দায় স্বীকার করেছে।”
তিনি বলেন, “লাশ উদ্ধারের সময় জমির জানিয়েছিল, কয়েকজন লোক রাতে বাড়িতে ঢুকে তার মুখ ও পা বেঁধে আব্দুল হককে খুন করে। ওইদিন জমিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
“জিজ্ঞাসাবাদে জমির জানিয়েছে, তাকে মা-বাবা ধরে গালি দেয়ায় ‘রাগের মাথায়’ সে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে আব্দুল হককে খুন করে। পরে একটি ছুরি দিয়ে নিজের পা কাটে এবং মুখ ও পা বেঁধে একটি ঘটনা সাজায়।”
ওসি আনোয়ার জানান, পরে ঘরের রান্না ঘরের পাশ থেকে রক্তমাখা লোহার রড, ডাইনিং রুমের ফ্রিজের পাশ থেকে ছুরি এবং বাড়ির একটি পুকুর থেকে তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।