ক্যাটাগরি

সনজীদা খাতুনের জন্মদিনে ছবি এঁকে শিশুদের শুভেচ্ছা

মহামারীকালে এবার তার জন্মদিনে সরাসরি কেউ শুভেচ্ছা জানাতে না পারলেও নানাভাবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন তার সহকর্মী, ভক্ত-অনুরাগীরা।

‘সন্জীদা আপুমণির জন্মদিনে প্রিয় কাজের উৎসব’ নামে ছবি এঁকে এবং ভিডিও বার্তায় বাসা থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে সনজীদা খাতুন প্রতিষ্ঠিত শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নালন্দার শিক্ষার্থীরা।

নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সমন্বয়ক এসএস রোকনুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আপার জন্মদিনে এবছর আমরা করোনার কারণে কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে পারছি না। তবে আমাদের শিশুরা যার যার বাসা থেকে ছবি এঁকে এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভালোবাসা জানিয়েছে “

এদিকে জন্মদিনে ছায়ানটের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সরাসরি গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে না পারলেও ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সনজীদা খাতুনকে।

ছায়ানটের সহ-সভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জন্মদিন উপলক্ষে উনি এমনিতেই কোনো আয়োজন পছন্দ করেন না। প্রতি বছর ছায়ানট থেকে আমরা তার বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানাই। কিন্তু এবছর আমরা যেতে পারছি না, এখন যাওয়া মানেই উনার ক্ষতি করা। আমরা তাকে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।”

সনজীদা খাতুনকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানালে তার ছেলে পার্থ তানভীর নভেদ বলেন, “করোনা পরিস্থিতির জন্য মনটা অনেক খারাপ উনার। নিজের শারীরিক অবস্থাও কিছুটা দুর্বল। গতকাল থেকে আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত-অনুরাগীরা অনেকে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে, কিন্তু উনি ওভাবে ফোনে কথা বলতে পছন্দ করছেন না। উনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।”

ড. কাজী মোতাহের হোসেনের মেয়ে সনজীদার জন্ম ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও রবীন্দ্র ভারতী থেকে স্নাতকোত্তর করে ১৯৭৮ সালে সেখান থেকেই তিনি পিএইচডি করেন।

দীর্ঘদিন অধ্যাপনার পর সনজীদা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে অবসর নেন।

সনজীদা খাতুন ছায়ানটের পাশাপাশি জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। প্রচলিত ধারার বাইরে ভিন্নধর্মী শিশুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নালন্দার সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

একাধারে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, লেখক, গবেষক, সংগঠক, সঙ্গীতজ্ঞ এবং শিক্ষক সনজীদা খাতুন সম্প্রতি ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।

একুশে পদক, বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কারে (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) ভূষিত সনজীদা ১৬টি বই লিখেছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত তার সাংস্কৃতিক মুক্তিসংগ্রাম বইটি ধারণ করেছে তার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, বাঙালির সাংস্কৃতিক সংগ্রামের প্রামাণ্য ইতিবৃত্ত এবং মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক তার একান্ত ভাবনাগুচ্ছ।

এবার বইমেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে তার লেখা জীবনবৃত্ত, টুকরো লেখার ঝাঁপি, বালক রবির কীর্তিকাণ্ড, কিশোরসমগ্র বইগুলো।

মহামারীর কারণে গত কিছুদিন ঘরেই থাকতে হচ্ছে তাকে, তবে মাঝে মাঝে ছায়ানটের অনলাইন ক্লাসে ঠিকই হাজির হচ্ছেন তিনি।