ক্যাটাগরি

‘লকডাউনের’ ঘোষণায় মাস্কের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

রোববার রাজধানীর বিভিন্ন
ওষুধের দোকান ও সুপারশপ ঘুরে দেখা যায়, মাস্কের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। হ্যান্ড
স্যানিটাইজারের দাম তেমন না বাড়লেও চাহিদা বেড়েছে। এছাড়াও জীবাণুনাশক, হ্যান্ডওয়াশ
এবং ওষুধের বাড়তি বিক্রির কথাও জানান বিক্রেতারা।   

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ
বাড়ার পর থেকে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় নতুন রেকর্ড হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সরকার দুই-তিন দিনের মধ্যে দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এই খবরে শনিবার বাবুবাজারে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচে মাস্কের পাইকারি বাজারে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সরকার দুই-তিন দিনের মধ্যে দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এই খবরে শনিবার বাবুবাজারে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচে মাস্কের পাইকারি বাজারে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

স্বাস্থ্য
অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৭ হাজার ৮৭ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের
সংক্রমণ ধরা পড়েছে; মৃত্যু হয়েছে আরও ৫৩ জনের।

পরিস্থিতি
সামাল দিতে সোমবার থেকে এক সপ্তাহের ‘লকডাউন’ শুরু হচ্ছে দেশে।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন,
লকডাউনের ঘোষণার পরই পাইকারি বাজারে মাস্কের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এতে তারাও
মাস্কের দাম বাড়াতে বাধ্য হন।

মিরপুরের ফার্মাসিয়া
ফার্মেসির বিক্রেতা মোহাম্মদ ইরফান বলেন, “আগে তিন লেয়ারের ইন্ডিয়ান ফেইস মাস্কের বাক্স
১৫০ টাকায় কিনতাম, সেটা গতকাল ২২০ টাকায় কিনেছি। করোনা বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু
ব্যবসায়ীরা।

“আমরা বেশি দামে কিনেছি
বলে বেশি দামে মাস্ক বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে স্যানিটাইজার আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
তবে হ্যান্ড গ্লাভসের বিক্রি বাড়েনি।”

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সরকার দুই-তিন দিনের মধ্যে দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এই খবরে শনিবার বাবুবাজারে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচে মাস্কের পাইকারি বাজারে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সরকার দুই-তিন দিনের মধ্যে দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এই খবরে শনিবার বাবুবাজারে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচে মাস্কের পাইকারি বাজারে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

লকডাউনের কারণে আগের
তুলনায় বেশি মাস্ক ও স্যানিটাইজার কিনে ফার্মেসিতে রেখেছেন বলে জানান তিনি।

রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ
লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ তুষার মিরপুরের পল্লবী এলাকার ফার্মেসিগুলোতে
জীবাণুনাশক সামগ্রী সরবরাহ করেন।

লকডাউন ঘোষণার পর চাহিদা
কয়েকগুণ বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগে দিনে গড়ে ১০ হাজার টাকার বিক্রি হত। গতকাল
বিকাল থেকেই বিক্রি বেড়ে গেছে, প্রায় ৪০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছি। আজকে এক লাখ
টাকার টার্গেট দিয়েছে কোম্পানি। কারণ অনেক ফার্মেসিতে চাহিদা বেড়েছে। তারা বেশি করে
পণ্য নিচ্ছে।”

সুপারশপ স্বপ্নের নাখালপাড়ার
আউটলেটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে লকডাউনের আগের দিন থেকেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশের
বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

সেখানকার বিক্রয়কর্মী
পলাশ জানান, বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় তাদের স্যানিটাইজার শেষ হয়ে গেছে।

ঢাকার বাবুবাজার সেতুর নিচে পাইকারি বাজারে শনিবার মাস্ক দেখছেন ক্রেতা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়ায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্তে মাস্কের চাহিদা আর দাম বেড়েছে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

ঢাকার বাবুবাজার সেতুর নিচে পাইকারি বাজারে শনিবার মাস্ক দেখছেন ক্রেতা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়ায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্তে মাস্কের চাহিদা আর দাম বেড়েছে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

লাজ ফার্মার কলাবাগান
শাখার ব্যবস্থাপক ফয়সাল হোসেন জানান, শনিবার থেকে মাস্কের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, “এখন মাস্ক-হ্যান্ড
স্যানিটাইজার দুটারই চাহিদা বেড়েছে। অনেক মানুষ কিনছে। অনেকের হয়ত বাসায় তুলে রাখা
আছে, তাই স্যানিটাইজারটা কিছুটা কম নিচ্ছে। কিন্তু মাস্ক বেশি বিক্রি হচ্ছে। কাস্টমারদের
মোটামুটি চাহিদা থাকায় আমরাও এগুলোর অর্ডার দিচ্ছি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে আনছি।”

তবে অনলাইনে মাস্ক
বা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা তেমন বাড়েনি।

অনলাইন মার্কেটেপ্লেস
দারজ বাংলাদেশের হেড অব পিআর (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শায়ন্তনী তিশা বলেন, “এখন
পর্যন্ত মাস্ক বা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বিক্রি তেমন বোড়েনি।

সুপারশপ স্বপ্নের কাস্টমার
এক্সিকিউটিভ অমর চন্দ্র সরকার জানান, রোববার ৫টি হোম ডেলিভারির দুইটিতে তারা হ্যান্ডওয়াশ
ও স্যানিটাইজারের অর্ডার পেয়েছেন।

মাস্কের দাম বেড়ে যাওয়ার
কথা জানিয়েছেন ক্রেতারাও।

ঢাকার বাবুবাজার সেতুর নিচে পাইকারি বাজারে শনিবার মাস্ক দেখছেন ক্রেতা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়ায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্তে মাস্কের চাহিদা আর দাম বেড়েছে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

ঢাকার বাবুবাজার সেতুর নিচে পাইকারি বাজারে শনিবার মাস্ক দেখছেন ক্রেতা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়ায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্তে মাস্কের চাহিদা আর দাম বেড়েছে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

ব্যাংক কর্মকর্তা ইসমাইল
হোসেন জানান, গত বছরের অগাস্ট মাস থেকে তিনি ৫০টি মাস্কের বাক্স কিনেছেন ৭০ থেকে ৮০
টাকায় কিন্তু লকডাউনের ঘোষণার পরই সেটার দাম ১৫০ টাকা হয়ে গেছে।

আবুল খায়ের গ্রুপের
ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যানার চিন্ময় মজুমদার বলেন, “মাস্কের দাম তো ডাবল হয়েছেই।

“হ্যান্ড স্যানিটাইজার
কিনলে আগে গায়ের দামের চেয়ে কিছুটা কম রাখত। এখন যা দাম তাই রাখছে।”

 গৃহিনী নূরজাহান বেগম বাসার পাশের ফার্মেসি থেকে
মাস্ক কিনেছেন প্রায় দ্বিগুণ দামে।

“সার্জিক্যাল মাস্ক
এক সপ্তাহ আগেও কিনলাম কত কম দামে। আর লকডাউনের কথা শুনেই দাম বাড়িয়ে দিল। এসব দিকে
আসলে সরকারের নজর দেওয়া দরকার। শুধু লকডাউন দিলেই তো হবে না। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও
রাখা দরকার।”

পুরান ঢাকার বাবুবাজারের পাইকারি এই মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের মাস্ক পাওয়া যায়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

পুরান ঢাকার বাবুবাজারের পাইকারি এই মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের মাস্ক পাওয়া যায়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

আবার অনেক বিক্রেতাই
বলছেন, তারা মাস্ক বা স্যানিটাইজার কোনটারই দাম বাড়াননি, আগের দামেই বিক্রি করছেন তারা।

মিরপুর ১২ নম্বরের
এন মোহাম্মদ ফার্মেসির রফিকুল ইসলাম জানান, ওষুধ ও মাস্কের বিক্রি মোটামুটি বেড়েছে।

“আমার ফার্মেসিটা গলির
ভেতরে তাই এখানে বিক্রিটা খুব বেশি বাড়ে নাই। সেকারণে তেমন মালামাল কিনি নাই। দামও
বাড়াই নাই, আগের দামেই বিক্রি করছি। সামনে কী হবে বলতে পারছি না।”

মিরপুরের কালশীর নিত্যপ্রয়োজনীয়
পণ্যের দোকান কিউএফসির বিক্রেতা মানিক হোসেন জানান, দুই-তিন সপ্তাহ ধরে মাস্ক, হ্যান্ড
স্যানিটাইজারের চাহিদাই বেশি। তবে দাম বাড়েনি।