জীবনের দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া ৮৯তম জন্মবার্ষিকীতে সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানোর পর তার কর্মময় ভাবনার খানিকটা তুলে ধরেন পুত্রবধূ লাইসা আহমদ লিসা।
তিনি জানান, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে জন্মদিনে সরাসরি শুভেচ্ছা জানাতে না পারলেও নানাভাবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন সহকর্মী, ভক্ত ও অনুরাগীরা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে লিসা বলেন, “করোনাভাইরাসের ঝুঁকি ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় উনি কারো সঙ্গে ওভাবে কথা বলছেন না। জন্মদিনে যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাদেরকে উনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।”
শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে সনজীদা খাতুনের পুত্রবধূ বলেন, “শরীর মোটামুটি ভালো। হাঁটতে-চলতে একটু কষ্ট হয়, চোখেরও সমস্যা আছে। এছাড়া এমনি মোটামুটি ভালোই আছেন।
“চোখের সমস্যার জন্য লিখতে অসুবিধা হয়। অল্প অল্প লেখালেখি করেন। আগের মতো আর সেটা করতে পারছেন না। খবর শোনেন, টেলিভিশন তো আর দেখেন না। এটা-সেটা করে ওনার সময়গুলো কেটে যাচ্ছে।”
১৯৬০ এর শুরুর দিকে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিত প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সনজীদা খাতুন। তার তত্ত্বাবধানে ছায়ানট এখন বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান, যা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নৃত্যের প্রসারে কাজ করছে।
প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে ছায়ানটের আয়োজনে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ উৎসব হয়ে থাকে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত দুই বছর নববর্ষের উদযাপন করতে পারেনি সংস্কৃতি চর্চায় অনন্য এই সংগঠনটি।
করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে আসায় ‘নব আনন্দে জাগো’- প্রতিপাদ্যে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে নতুন বছরকে বরণ করা হবে, সে উপলক্ষে সনজীদা খাতুন বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান লাইসা আহমদ লিসা।
“সমাজ-সংস্কৃতি তাকে এখনও ভাবায়। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তিনি আমাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। কীভাবে আমরা সারাদেশে গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র কাজ করতে পারি, সেজন্য সবসময় তিনি অনুপ্রেরণা ও নির্দেশনা দেন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের মেয়ে সনজীদা খাতুনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করে ১৯৭৮ সালে সেখান থেকেই তিনি পিএইচডি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। দীর্ঘদিন অধ্যাপনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে তিনি অবসর নেন।
একাধারে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, লেখক, গবেষক, সংগঠক, সঙ্গীতজ্ঞ এবং শিক্ষক সনজীদা খাতুন সম্প্রতি ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।
একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কারে (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) ভূষিত সনজীদা খাতুন ১৬টি গ্রন্থের রচয়িতা। প্রচলিত ধারার বাইরে ভিন্নধর্মী শিশুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নালন্দা’র সভাপতিও তিনি।