বুধবার বিকালে নগরীর উন্মুক্ত স্থান আর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শকের ভিড় ছিল উপচেপড়া। আর তাতে ছিল সব বয়সী মানুষ।
চট্টগ্রাম নগরীতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুরতে গিয়েছিল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। নগরীর এক প্রান্তে সাগর পাড়ে ঘুরতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় লাখ ছাড়িয়েছিল বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
তবে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় কমতে শুরু করে। রাতেও কিছু বিনোদন প্রেমী মানুষ ছিল সাগর তীরে নির্জনতার খোঁজে।
নগরীর হালিশহর থেকে মো. মামুনুল হক সপরিবারে গিয়েছিলেন সৈকতে ঘুরতে। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কাল ঈদের দিনে বৃষ্টির জন্য আর কোথাও যাওয়া হয়নি। আজও সকালে বৃষ্টি ছিল। বৃষ্টি থামার পর পরিবারের শিশুদের নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। এখানে এসে দেখি খুব ভিড়।”
নগরীর মোহরা এলাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা ফাইরুজ আলম বলেন, “এমনিতে খোলা সৈকতে রোদে দিনের বেলায় কষ্ট হয়। আজ আবহাওয়াটা খুব ভালো। রোদের তাপ নেই। কিন্তু ঝিরিঝিরি বৃষ্টি একটু ভোগান্তি দিয়েছে।”
পতেঙ্গা থানার ওসি কবির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ প্রায় এক লাখের বেশি মানুষের সমাগম হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা চেক পোস্ট ও নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করেছি। আমাদের সাথে ট্যুরিস্ট পুলিশও আছে।
“সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের ১০ শতাংশ এখনো আছে। রাতেও কিছু লোকজন নিরিবিলি পরিবেশে ঘুরতে পছন্দ করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সচেতন আছি।”
মহামারী বিধি-নিষেধ পেরিয়ে প্রথম ঈদে নগরীর পাহাড়তলীতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এবার দর্শক সমাগমও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়ায়।
মঙ্গল ও বুধবার চিড়িয়াখানায় মোট ৩২ হাজার। এরমধ্যে বুধবার সাড়ে ১৯ হাজার দর্শক যান, যা এই চিড়িয়াখানায় একদিনে রেকর্ড বলে জানান কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ।
পাশের ফয়’স লেক এমিউজমেন্ট পার্কের সী ওয়ার্ল্ডেও ছিল ভিড়।
নগরীর খুলশী থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসা সামিউল হক বলেন, “সী ওয়ার্ল্ডে আসার কারণ হলো সকাল থেকে বৃষ্টি ছিল। তাই ভাবলাম বৃষ্টি আসলেও এখানে কোনো সমস্যা নেই। এখানে পানিতে সবাই খুব মজা করলাম।”
ফয়’স লেক এমিউজমেন্ট পার্ক পরিচালনাকারী কনকর্ডের উপ-ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃষ্টির কারণে ঈদের দিন লোক সমাগম প্রত্যাশা মতো হয়নি। প্রায় এক হাজার দর্শনার্থী এসেছিল। আজ সকালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লোক কম ছিল।
“তবে বেলা বাড়ার সাথে দর্শনার্থীর ঢল নামে। আজ সারাদিনে সাড়ে ৪ হাজার দর্শনার্থী আসে। তাদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি। সী ওয়ার্ল্ডে জলের উৎসবে মেতে আনন্দ করেছে তারা।”
নগরীর বহদ্দারহাটের স্বাধীনতা পার্কের ম্যানেজার মো. আলী জনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত দুবছর পার্ক বন্ধ ছিল।
“এবার প্রত্যাশা ছিল অনেক লোক সমাগম হবে। ঈদের দিন বৃষ্টিতে তেমন মানুষ আসেনি। আজ লোকজন এসেছে। ভিড়ও হয়েছে।”
বুধবার পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।