বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় ঘুরে মানুষের আনাগোনা বেশ কম দেখা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ শাখা ব্যাংকগুলোতে ছিল ঈদের আমেজ, কাজের চাপও ছিল কম।
সকাল সাড়ে ১০টায় দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের মগবাজার শাখায় টাকা তোলা এবং জমা দেওয়ার কাউন্টারে মাত্র দুইজন গ্রাহককে দেখা যায়। বেলা সাড়ে ১১টায় সোনালী ব্যাংকের অগ্রণী স্কুল শাখাতেও ছিলেন দুইজন গ্রাহক।
এবার ঈদে ২ থেকে ৪ মে তিন দিন ছিল সরকারি ছুটি। তার আগে ১ মে শ্রমিক দিবসের ছুটি এবং ২৯ ও ৩০ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল।
তবে ঈদ উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যে লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় লম্বা ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিন গত শনিবার সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখা হয়।
ঈদের পর রোজার আগের নিয়মে চলেছে লেনদেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত লেনদেন হয়। এরপর অন্যান্য কাজের জন্য ব্যাংক খোলা ছিল ৬টা পর্যন্ত।
রোজার মধ্যে ব্যাংক খোলা ছিল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। ব্যাংকিংয়ের পর অন্যান্য কাজের জন্য খোলা ছিল বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের মগবাজার শাখায় বেলা সাড়ে ১২টায় এবং জনতা ব্যাংকের মগবাজার শাখায় ২টার দিকে গ্রাহকের কোনো ভিড় দেখা যায়নি।
ব্যতিক্রম ছিল ব্যাংকটির কারওয়ানবাজার শাখা। সেখানে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কিছুটা লেনদেন হয়। এরপর তেমন কোনো লেনদেন হয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা।
সেখানকার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার আল ফাহাদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,“ব্যবসায়ীরা যা বিক্রি করেছেন সেই টাকা জমা দিতে এসেছিলেন। পরে লেনদেনের চাপ একদম কমে যায়।”
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মহসিনুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে তেমন কোনো গ্রাহক ছিল না। আমাদের কলিগদের মধ্যে আড্ডা দিয়ে দিন কেটেছে।”
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আরিফুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে লেনদেনে তেমন ছিল না। লোকজনও ছিল না।”
বাংলাদেশ ব্যাংকেও ঈদের আমেজ
ছুটির পর কার্যদিবসের প্রথম দিনে ঈদের আমেজ দেখা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। বৃহস্পতিবার ‘খুব জরুরি’ নথিগুলোই এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে। এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে কিংবা চেম্বার থেকে অন্যদের চেম্বারে গিয়ে তারা কুশল বিনিময় করেছেন।
মে দিবস ও ঈদুল ফিতর মিলিয়ে গত ১ মে থেকে ৪ মে পর্যন্ত চারদিন ছুটি ছিল। এর সঙ্গে একদিন ছুটি নিয়ে অনেকেই শুক্র ও শনিবারের দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ করে নেওয়ায় প্রথম কার্যদিবসে অর্ধেক জনবল ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে।
কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়ে ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যথা সময়ে অফিসে এসেছেন অতিরিক্ত ছুটি না নেওয়া কর্মকর্তারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সাধারণত সরকারি কর্মকর্তারা ছুটি একটু কমই পান। ঈদের পর যেহেতু একদিন ছুটি নিলে পরবর্তী ৬ ও ৭ তারিখের সাপ্তাহিক ছুটি দুটো পায় সেজন্য অনেকেই সুবিধাটি নিয়েছেন।
“যাতে করে ঈদ শেষে সহনীয় যানজটের মধ্যে ৮ মে অফিস করতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৫০ শতাংশ জনবলই একদিনের ছুটির সুবিধা নিয়েছেন। এতে ঈদ পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে উপস্থিতি কম ছিল।”
‘থার্ড ফ্লোর’ নামে পরিচিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অফিস গভর্নর ভবনের চতুর্থ তলায় গিয়েও দেখা গেছে উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
যারা এসেছিলেন তাদের অধিকাংশই ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করে দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। আবার কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখা গেছে ফাইলের স্তূপ নিয়ে একের পরে এক ফাইল দেখছেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে ফাইল পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
কর্মকর্তারা জানান, আগামী রোববার পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক হবে। বৈঠকের আলোচ্যসূচি নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় নোট, তথ্য ও প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, এসব চূড়ান্ত করার কাজই মূলত এদিন হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ত্রিশ তলা, ক্যান্টিন ভবন, মতিঝিল অফিস ঘুড়ে দেখা গেছে প্রায় অর্ধেক ডেস্কই ফাঁকা। সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায় বাকিদের।
উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও কাজের চাপ খুব একটা ছিল না। যে কারণে বিকাল ৪টার দিকেই বেশিরভাগ ডেস্কের কর্মীরা অফিস ছেড়ে গেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়েও ছিল একই চিত্র। সঞ্চয়পত্রসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লেনদেন এ কার্যালয়েই হয়। এ কারণে চাপ তুলনামূলক বেশিই থাকে। কিন্তু আজ সেখানে চিরচেনা সেই ব্যস্ততা ছিল না।
ক্রেতা এবং গ্রাহকের অপেক্ষা করার আসনগুলোও খালিই পড়ে ছিল। উপস্থিত কর্মকর্তারাও একে অন্যের সঙ্গে গল্প করে ‘আলস্যে’ সময় কাটিয়েছেন।
এসময় বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেক ক্লিয়ারিংসহ অভ্যন্তরীণ লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভাগগুলোতে কাজের চাপ একটু দেখা গেছে, তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এটা ছিল অর্ধেকেরও কম।
ব্যাংক পাড়া হিসেবে পরিচিত মতিঝিলের ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ব্যাংকারদের উপস্থিতি থাকলেও গ্রাহকের চাপ সেরকম ছিল না। নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া কেউ নগদ টাকা তুলতে ব্যাংকে আসেননি।
রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল অফিসের চিত্র একটু আলাদা ছিল। ব্যাংকের সবচেয়ে বড় এ শাখায় বড় অঙ্কের নগদ অর্থের লেনদেন করতে কর্পোরেট গ্রাহক ও ব্যক্তিরা আসলেও তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম।
শাখাটির ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালের দিকে একটু কম ছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে চাপ বেড়েছে। অধিকাংশই এসেছেন টাকা তুলতে, আবার টাকা জমাও দিতে এসেছেন অনেকে।
“সাধারণ অতীতের তুলনায় ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন একটু বেশিই হয়েছে, যা আশা করিনি। দিন শেষে দেখা গেছে স্বাভাবিক সময়ের তুলানায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে আজ।”
রমজান মাসে সব ব্যাংকের অফিস সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা ছিল। তবে লেনদেন হয়েছে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। ঈদের ছুটির পর নিয়মিত সময় অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত লেনদেন হয়। ব্যাংক খোলা থাকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন