বৃহস্পতিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক অনুষ্ঠানে
সরকার ও ওষুধ কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া এই উপহার হস্তান্তর করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জাহিদ মালেকসহ অতিথিরা ঢাকায়
শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনার সুদর্শন সেনেভিরত্নের হাতে
ওষুধ সামগ্রী তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা
সম্ভব সব উপায়ে শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়াতে চাই। এখন ২০ কোটি টাকার ওষুধ আমরা উপহার দিচ্ছি।
তাদের দিক থেকে তথ্য পেলে আমরা সহায়তা দেব।”
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর সবচে বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময়টা
পার করছে শ্রীলঙ্কার মানুষ। দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থায় ৮৫ শতাংশ রসদই আমদানি করতে হয়।
কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজধানী কলম্বোর হাসপাতালগুলোতে কোন কোন ওষুধ শেষ হয়ে আসছে;
চেতনানাশক, ইমপ্ল্যান্ট, এমনটি সেলাইয়ের উপকরণেও টান পড়েছে। এ অবস্থা চললে রোগীদের
মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব না বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
এক প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত
দিয়ে মোমেন বলেন, এই ওষুধের মধ্যে শিল্পোদ্যক্তারা দিয়েছেন ১০ কোটি টাকার ওষুধ, আর
বাকিটা বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দিচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশের সংকটের মধ্যে
এই সহযোগিতাকে ‘বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের প্রকাশ’ হিসাবে বর্ণনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে দুই দেশ খুব নিবিড় সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
জরুরি ওষুধও ফুরিয়ে আসছে, ভেঙে পড়ার দশা শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার
নেই ওষুধ, শ্রীলঙ্কায় মোবাইলের আলোতে চলছে অস্ত্রোপচার
“একই রকম ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও উন্নয়নের আাকাঙ্ক্ষা লালন করছে দুই দেশ
এবং বিভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে।”
মোমেন বলেন, “কোভিড-১৯ বৈশ্বিক
সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যস্ত করেছে এবং ইউক্রেইন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে
দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে।
“প্রত্যেক দেশ নিজস্ব প্রেক্ষাপটে চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলা করছে। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। এই পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা
যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।”
বিদেশি মুদ্রার সঙ্কটে শ্রীলঙ্কা সরকার জ্বালানি তেল, খাদ্য,
কাগজের মতো নিত্যপণ্যও আমদানি করতে পারছে না। জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায়
সেখানে চলছে সরকারবিরোধী অসন্তোষ।
বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে গতবছর শ্রীলঙ্কার অনুরোধে ২০
কোটি ডলার ধার দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময়ে সেই অর্থ তারা শোধ করতে পারেনি।
এ বছর তারা নতুন করে আরও ২৫ কোটি ডলার ধার চাইলেও ঝুঁকি
নিতে রাজি নয় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শ্রীলঙ্কায় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর
বিষয়টিকে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অগ্রগতির স্মারক হিসেবে তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মোমেন বলেন, “বিশ্ব ওষুধ বাজারে আমাদের ওষুধ শিল্প ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে। শ্রীলঙ্কাতেও
রপ্তানি হয় আমাদের ওষুধ।”
অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল
আহসান পাপন, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব)
মাশফি বিনতে শামস ও দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ টি এম রকিবুল হক অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন।