বিবিসিকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে
এপস্টেইন এবং মাস্ক ছাড়াও সামাজিক মাধ্যমে তার উপস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছেন গেটস। সামাজিক
মাধ্যমগুলোতে প্রচারিত ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলোকে ‘উদ্ভট’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি; জনসমাগমে
তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসীদের চেঁচামেচি ‘ভয়াবহ’ লাগে সাবেক মাইক্রোসফট
প্রধানের।
এপস্টেইন বিতর্ক
গেল বছরে প্রায় তিন দশকের সম্পর্কের ইতি
টেনে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস। বিশ্বের বৃহত্তম দাতা সংস্থগুলো
একটি ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতাও তারা দুজন।
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গেটস বলেন,
“আমার জীবন এখন অনেক পাল্টে গেছে। আমার বাচ্চারা বাড়িতে নেই। শেষজন এক বছর আগেই কলেজের
জন্য বাড়ি ছেড়েছে। বিচ্ছেদও কঠিন বিষয়। গত বছর খুব কঠিন ছিল।”
গেটস দম্পতির বিচ্ছেদের সময় খবর রটেছিল,
পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেছিলেন বিল গেটস। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া শিশু নিপীড়ক জেফরী এপস্টেইনের
সঙ্গে বিল গেটসের সাক্ষাৎ নিয়েও সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন মেলিন্ডা গেটস।
মার্চ মাসেই সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা বলেন, “না, জেফ্রি
এপস্টেইনের সঙ্গে ওর সাক্ষাতের বিষয়টা ভালো লাগতো না আমার। আমি তাকে এটা পরিষ্কার জানিয়েও
দিয়েছিলাম।”
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এপস্টেইনের
সঙ্গে বৈঠকগুলোকে নিজের ‘ভুল’ ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন বিল গেটস।
“জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করা আমার
ভুল ছিল।” এই বিষয়ে সম্ভবত মেলিন্ডা গেটসের ধারণাই সঠিক ছিল বলে জানান তিনি।
“তার সঙ্গে আমার যখনই দেখা হোক না কেন
সেটা তার অন্যায় কাজে আমার সমর্থন হিসেবে কেউ দেখতেই পারেন। তো, সেটা ভুল ছিলই।”
পরিবেশ রক্ষা আর প্রতিষ্ঠানের আর্থিক মূল্যায়ন ভিন্ন বিষয়
বিশ্বের শীর্ষ ধনীর সিংহাসন দীর্ঘ দিন
বিল গেটসের দখলে ছিল। এখন এর দাবিদার ইলন মাস্ক, এবং বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ ধনীর মধ্যে
বন্ধুসুলভ সম্পর্কও নেই।
গেল সপ্তাহেই গেটসের বিরুদ্ধে টেসলা শেয়ার
‘শর্টিং’ এর অভিযোগ তুলেছিলেন মাস্ক। একটি প্রতিষ্ঠান বাজার মূল্য হারাতে যাচ্ছে এমন
বাজি ধরে অর্থ কামাইয়ের কৌশল হচ্ছে ‘শর্টিং’। পরবর্তীতে গেটসের উদ্দেশ্যে অপমানজনক
টুইটও করেন মাস্ক।
এ প্রসঙ্গে গেটসের মত, “আমার সঙ্গে ভাল
আচরণের কোনো প্রয়োজন তার নেই”।
পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় জনহিতকর কর্মকাণ্ডের
জন্য পরিচিতি আছে গেটসের। মাস্কের অভিযোগ, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা টেসলার বিরুদ্ধে
তৎপর হয়ে নিজের পরিবেশ রক্ষা কর্মকাণ্ডেরই ক্ষতি করেছেন গেটস।
আদৌ টেসলার বিরুদ্ধে বাজি ধরেছিলেন কি
না, সে প্রশ্নের উত্তরে গেটস বলেন, “এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই।”
“বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির জনপ্রিয়তা ওই গাড়িগুলোর
বিক্রি নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াবে। এক্ষেত্রে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে
থাকা এবং একটি প্রতিষ্ঠান সীমাহীনভাবে মূল্যায়িত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে।”
সম্প্রতি মাস্কের ক্রয় প্রস্তাব গ্রহণ
করেছে মাইক্রোব্লগিং সেবা টুইটারের পরিচালনা পর্ষদ। এ প্রসঙ্গে বিবিসির সংবাদকর্মী
মিশাল হুসাইনকে গেটস বলেন, “আপনি তো ইলনের ব্যাপারে জানেনই। টুইটারের অবস্থা আরও খারাপ
হতে পারে। কিন্তু ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তাই আমি কী হয় দেখার জন্য অপেক্ষা করার
সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের হয়রানি
সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রচারিত বেশ কিছু
ষড়যন্ত্রতত্ত্বের মূল বিষয় বিল গেটস। তাই সামাজিক মাধ্যমগুলোর প্রতিও আগ্রহ আছে বলে
জানিয়েছেন তিনি। টিকার গবেষণা প্রকল্পে কয়েকশ কোটি ডলার খরচ করেছেন গেটস, বরাবরই বিভিন্ন
টিকাদান কর্মসূচির সমর্থক ছিলেন তিনি।
গেটসের এই কর্মকাণ্ড ঘিরেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলোর
সূত্রপাত। গেটস টিকার মাধ্যমে মানুষের ওপর নজরদারি করার চেষ্টা করছেন, এমন গুজবের পালে
হাওয়া লেগেছিল মহামারী চলাকালীন।
“এটা এতোটাই উদ্ভট যে কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে
প্রায় হাসতেই হবে। আমি সত্যিই মানুষকে অনুসরণ করতে চাই? টিকার পেছনে আমি শত শত কোটি
ডলার খরচ করি, কিন্তু টিকা থেকে আমার কোনো কামাই নেই। টিকা তো মানুষের জীবন বাঁচায়,”
বিবিসিকে বলেন গেটস।
রাস্তাঘাটে জনসমক্ষে ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিকদের
হেনস্তার মুখে পড়েছিলেন তিনি। “কিছু দিন আগেই জনসমক্ষে বের হয়েছিলাম। কিছু লোক আমার
উদ্দেশ্যে চেঁচাচ্ছিল যে আমি তাদের ওপর নজর রাখছি। এটা ভয়াবহ ছিল।”